November 4, 2026, 6:52 pm

সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব

সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া আইনটি সংশোধন ও চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইনটি যেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের হয়রানির কারণ না হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ, মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব উঠে আসে।

মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

খসড়া আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো এবং ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। গণমাধ্যম বা কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও আসে।

পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী ও মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরামর্শ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আইন পুনরায় পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত নিয়ে আইনটিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রেখে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা