November 4, 2026, 9:09 am

ডিসেম্বর ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার

ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় দেশজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ও বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের তথ্য পেয়েছে সরকার। এ পরিস্থিতির নেপথ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কয়েকটি অংশের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডিসেম্বর ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চালানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক সূত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছে সরকার। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে রাজধানী, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ ও গোপালগঞ্জকে। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ে রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়। বৈঠকে ডিসেম্বর ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সরকারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতা এবং তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের একটি অংশের ইন্ধন থাকতে পারে। শ্রমঘন এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন কয়েকজন শ্রমিকনেতা ও ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। কিছু শিল্পমালিকও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীরা অনুপ্রবেশ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করার অপচেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, নৈরাজ্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোও সতর্ক অবস্থানে থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতায় না জড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরীহ শ্রমিকদের হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলমান সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আন্দোলনের মাঠ কাউকে এককভাবে ভোগদখলের জন্য দেওয়া হয়নি। আন্দোলনের নামে সংঘাত সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে যানবাহনে আগুন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশই পরাজিত শক্তির দোসর বলে দাবি করেন তিনি। এসব পরিস্থিতি বিএনপি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে বলেও জানান রিজভী।

এই বিভাগের আরও খবর


কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও আর্থিক তথ্যে একাধিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই আবেদনে আমির হামজার নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, কৃষিজমি, আবাসিক প্লট, স্ত্রীর সম্পদ, বাড়িভাড়া, মোটরযান, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য নিয়ে বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের আয়কর রিটার্নে আমির হামজার ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য দেখানো হলেও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির কুষ্টিয়া শাখায় তাঁর একটি হিসাবে ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ টাকা জমা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনী হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছে ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা। এতে ৩৬ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, আমির হামজা প্রতি শুক্রবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্মানী পান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব আয়ের তথ্য নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় ৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে, যার পুরোটাই হামজা এন্টারপ্রাইজের কাপড় ও বইয়ের ব্যবসা থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে আমির হামজার ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ না করা এবং তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্নের তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি সম্পত্তির তথ্যেও অসংগতির অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, হলফনামায় আমির হামজার কৃষিজমির মূল্য ১১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে তা ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর কৃষিজমির পরিমাণ হলফনামায় ১২ কাঠা বা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে ১২০ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে। দুই নথিতে জমির মূল্যেও ১৫ লাখ টাকার পার্থক্য রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৬৪৯৮ নম্বর দলিলে আমির হামজার স্ত্রী ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ জমি কিনেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির মূল্য ৬ লাখ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর অংশের মূল্য ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা। আবেদনকারীর অভিযোগ, এই সম্পত্তির তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে কুষ্টিয়া শহরের রাহিনী মৌজায় আমির হামজার নিজ নামে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ জমির একটি আবাসিক প্লট থাকার কথাও বলা হয়েছে। ২০১৪ সালে কেনা ওই জমির বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী। তবে হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে এ সম্পত্তির তথ্য নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে দেখানো বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বাড়িভাড়ার আয়, ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৯-১৭৫৭ নম্বরের গাড়ি, ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম স্বর্ণ এবং পাঁচতলা ভবন ও জমির মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। তাঁর দাবি, গাড়িটির মূল্য হলফনামায় ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে এর তথ্য নেই। একইভাবে আয়কর রিটার্নে ১০ ভরি স্বর্ণের তথ্য থাকলেও নির্বাচনী হলফনামায় তা উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচনী ব্যয় নিয়েও অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম। আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন খাতে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরিচালনার ব্যাংক হিসাব থেকে আরও ৩৮ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে নির্বাচনী ব্যয় ৭২ লাখ টাকা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এ ব্যয় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি কি না, তা তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হলফনামায় বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬০ টাকা দেখানো হলেও চালকের বেতন, ইউটিলিটি বিল ও সন্তানদের শিক্ষাব্যয় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবন ও জমির সম্মিলিত মূল্য ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৮৩ টাকা দেখানো নিয়েও আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারী। আবেদনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে অসংগতি কিংবা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করতে পারে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রার্থিতা ও নির্বাচন বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল, বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, যানবাহন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ এবং ভূমি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নথিপত্র যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মূল দলিল উপস্থাপন করে তদন্তে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আবেদনকারী সিরাজুল ইসলাম ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করছি, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী হলফনামায় বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক তথ্যের অসংগতি রয়েছে। এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তিনি একজন আলেম মানুষ। তার কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশা করিনি। এ কারণে আমি অভিযোগ করেছি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফেসবুকে আমরা