November 6, 2026, 2:27 am

ডিসেম্বরের আগেই গঙ্গা চুক্তি, ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরানোর অগ্রাধিকার

চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর আগেই নতুন চুক্তি করতে হবে। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে এ বিষয়ে নিয়মিত কাজ করছে। বৈঠকের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথমবার পাঁচ বছরের জন্য গঙ্গা চুক্তি করা হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। তবে ১৯৯৬ সালে নতুন চুক্তিতে সেই ধারা রাখা হয়নি। এবার নতুন চুক্তিতে ওই ধারা ফিরিয়ে আনাই বাংলাদেশের মূল অগ্রাধিকার।

এদিকে পদ্মা ব্যারাজের কাজ আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। দেশের মোট অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পাবে।

পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরের প্রথম তিন মাসের যেকোনো এক সময়ে এর কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। উজান থেকে পানি আসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভাটির মানুষ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করতে হবে। এই স্টাডির ভিত্তিতেই মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে স্টাডি শেষ করে একই বছরে মূল কাজ শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বিদেশি কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের সঙ্গে দেশের মানুষের স্বার্থ জড়িত। পদ্মা ও তিস্তার পাড়ের মানুষের স্বার্থ ও চাপই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পদ্মা ব্যারাজের স্টাডি শেষ করতে ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার এটি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে। তিস্তার মতো বড় প্রকল্পের স্টাডি রাতারাতি শেষ করা সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে সরকার নিজ উদ্যোগে এ কাজ শেষ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা