সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রথম সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সচিব সভায় সরকারি চাকরির শূন্য পদ পূরণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে সরকারি দপ্তরগুলোতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় সরকারি কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এবারের সচিব সভায় মোট চারটি বিষয় আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়। এর মধ্যে ছিল সরকারের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বিষয়, ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ এবং সরকারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিষয়। এ ছাড়া জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বিষয়ও আলোচনার সুযোগ রাখা হয়।
সভায় চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটও গুরুত্ব পায়। ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়লে দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট এক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব মোকাবিলায় আমদানিনির্ভর জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও বিস্তৃতি বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সরকারি ভবন ও স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন, বেসরকারি খাতকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির অংশ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সচিবদের বলা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয়, উপকারভোগী নির্বাচনসহ পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ সচিব সভা অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করলেও ওই সরকারের সময়ে আর কোনো সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় দুই বছর পর মঙ্গলবার আবার সচিব সভা অনুষ্ঠিত হলো।