September 14, 2026, 3:28 pm

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, নীরব প্রধানমন্ত্রী মার্টিন

আয়ারল্যান্ড সফরে গিয়ে দেশটিকে একীভূত করার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আয়ারল্যান্ড এক হয়ে গেলে তা হবে ‘চমৎকার’ একটি বিষয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো ঝামেলা তৈরি করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের বলছি, আমি আয়ারল্যান্ডকে একীভূত দেখতে চাই। একদিন না একদিন এটা হবেই। আমার মনে হয়, এটা খুবই সুন্দর একটা ব্যাপার হবে।’

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের সময় পাশে থাকা প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে অবশ্য লন্ডনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়ারল্যান্ডের একীভূত হওয়ার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এর আগে বুধবার পার্লামেন্টে উত্তর আয়ারল্যান্ডে একীভূত হওয়ার প্রশ্নে গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে বার্নহাম বলেছিলেন, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নতুন করে গণভোট চায়। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে এ ধরনের গণভোট আয়োজনের কোনো কারণও নেই বলে জানান তিনি।

১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে নাকি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের রক্তক্ষয়ী ‘দ্য ট্রাবলস’ সংঘাতের অবসান ঘটাতে ওই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান ইউনিয়নিস্ট দল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসনও ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ট্রাম্প নির্ধারণ করবেন না। এ সিদ্ধান্ত সেখানকার জনগণই নেবে।

রবিনসন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও জানেন নির্বাচন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন, ডাবলিন কিংবা ওয়াশিংটনের কোনো কথার ওপর নির্ভর করে এ সিদ্ধান্ত হবে না।’

এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে এখনো উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকলেও দুই পক্ষের ব্যবধান কমে আসছে। বিশেষ করে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সফরে আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরের সময় শ্যানন বিমানবন্দরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন কনলি। এবারও ট্রাম্পের সফর ঘিরে ডাবলিনে যুদ্ধবিরোধী ও ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা মার্কিন সামরিক নীতি, আয়ারল্যান্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং গাজায় ইসরাইলের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সফরের নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা