July 16, 2026, 10:36 pm

সাঘাটায় মাদক প্রতিরোধে কমিটি গঠন, সাংবাদিককে হুমকির তীব্র নিন্দা

স্টাফ রিপোর্টার:

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় মাদক কারবারিদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘মাদক প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলার ২নং ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ২নং ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফারুক হোসেন মন্ডল। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মাদক কারবারিদের আনাগোনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জলিল সরকার বলেন, ভরতখালী ইউনিয়নকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে হবে। তিনি গভীর রাতে, বিশেষ করে রাত ১০টার পর উল্যাবাজার এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় এ বিষয়ে বক্তব্য রাখার জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিবদের প্রতি অনুরোধ জানান।

সভায় উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মাদকবিরোধী উদ্যোগের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। ভরতখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. শওকত মির্জা রোস্তম বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের বেপরোয়া আচরণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সাঘাটা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. মিথুন বলেন, মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এস.কে.এস.-এর প্রতিনিধি আল মাবুদ নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জানানো হয়, এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিক ইয়ামিন হাসানকে সম্প্রতি একটি মহল হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে তিনি সাঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যেন হুমকি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে, সাংবাদিক ইয়ামিন হাসানকে হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, গাইবান্ধা জেলা শাখা। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এ ধরনের হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।

সভায় ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রওশন আলম, ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক এস এম মিজানুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর ভরতখালী ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হান্নানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অচিরেই পূর্ণাঙ্গ মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, নজরদারি এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভরতখালীসহ সাঘাটা উপজেলায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা