May 18, 2026, 6:14 am

ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা: আড়াই বছর পর পিবিআইয়ের অভিযানে ৬ জন গ্রেপ্তার

গাজী সোহেল :

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম (১৯) হত্যাকাণ্ডের প্রায় আড়াই বছর পর মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা যায় ।

এক প্রেস রিলিজে পিবিআই জানায়, ফতুল্লা থানার মামলা নং-২৪ ( ১১ নভেম্বর ২০২৩), জিআর নং-৮১২, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডের মামলাটি তদন্তাধীন ছিল। পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ, বিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়।

গত ১৩ মে ফতুল্লা থানাধীন আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. শান্ত হোসেন (২৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

প্রধান আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ মে রাতে ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন, মো. আহাদ আলী (২৩), মো. রুবেল (৩২), আশিক (২৩), মো. জুম্মন (২৩) এবং মো. জাহিদ হাসান শুভ (২৫)।
পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

রিমান্ড শেষে রবিবার (১৭ মে) আদালতে হাজির করা হলে মো. আহাদ আলী (২৩) স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আতিকুল ইসলাম ফতুল্লার আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজার এলাকায় ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশ ব্যবসা করতেন। একই এলাকায় আলী সম্রাট (২৪) নামের আরেক বিকাশ ব্যবসায়ীও লেনদেন করতেন।

২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে আলী সম্রাট বিকাশের লিমিট শেষ হওয়ায় আতিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
রাত আনুমানিক ১০টার দিকে টাকা ফেরত চাইলে আলী সম্রাট আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় আসতে বলেন। আতিকুল তার বন্ধু মাসুম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। পরে মাসুম কিছুক্ষণের জন্য বাজারে গেলে আতিকুল নিখোঁজ হয়ে যান।

পরদিন ১১ নভেম্বর সকাল ৯টার দিকে আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুরে আতিকুলের লাশ ভাসতে দেখা যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা, বুক ও পেটে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

পিবিআইয়ের আরও জানিয়েছে , পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আলী সম্রাট আতিকুলকে ডেকে এনে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন। এরপর আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা শান্তসহ অন্য আসামিরা ওই টাকা এবং আতিকুলের কাছে থাকা আরও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
অন্যদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা