গুটি আম নামানোর মাধ্যমে রাজশাহীতে আমের মৌসুম শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে চাষীরা গুটি আম নামাতে শুরু করেছেন।
চাষীরা বলেন, এ বছর আম উৎপাদনের পরিবেশ ভালো ছিলো। একারণে ফলন ভালো হয়েছে। এখন দাম ভালো থাকলে তারা লাভবান হবেন।
রাজশাহী জেলায় এ বছর আমবাগান রয়েছে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে। এতে ৭৮০ কোটি টাকার প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিকটন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
গত রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর বা খিরসাপাত বাজারজাত করা যাবে। এছাড়া ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাংগো, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি সংগ্রহের অনুমতি থাকবে।
আগামী ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম নামানো যাবে। অন্যদিকে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত আম নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে গাছ থেকে আম নামিয়ে বাজারজাত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রাজশাহী অঞ্চলের আম গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, বলেন, গুটি আমের মধ্যে মিয়ার চারা নামের একটা আম ১০ মের পর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। বসরীর জমিদার নুরুদ্দীন সাহেব মুর্শিদাবাদ থেকে এই জাত এনেছিলেন। এটা খেতেও ভালো। আগে তোফা নামের আরেকটা জাত আগাম পাওয়া যেত, এখন বিলুপ্ত । পাওয়া যায় না। ভালোজাতের আম আসবে ২০ মের পর। তিনি বলেন, এখন বাজারে সাতক্ষীরার গোপালভোগ পাওয়া যাচ্ছে। এটা পরিপক্ক নয়। কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে এটা এখন বাজারে পাঠানো হচ্ছে, এটা ঠিক হয়নি।