April 19, 2026, 4:42 pm

লালমনিরহাটে মোটরসাইকেল চুরি করে বিক্রি, চুরি হওয়া বাইক ইউপি সদস্যের হাতে।

মো:মাজেদুল ইসলাম (মামুন)লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটে মোটরসাইকেল চুরি ও বিক্রির ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সদর উপজেলার রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান ফটকের সামনে থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল পরে কুলাঘাট ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের কাছে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মোটরসাইকেলের মালিক মোঃ তৈয়ব আলী এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৭৩৪৭১, তারিখ ০৩/১২/২০২৫) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট রাতে মোটরসাইকেলটি স্টেশনের সামনে রেখে ভেতরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে দেখেন সেটি নেই। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে কোনো ফল না পেয়ে থানায় জিডি করেন তিনি।

পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়-দাড়ি, টুপি ও কোট পরিহিত এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে মোটরসাইকেলের আগের মালিকানা নিয়ে করা একটি স্ট্যাম্প চুক্তিপত্রও উদ্ধার হয়েছে। তবে জিডির পরদিনই জানা যায়—চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি কুলাঘাট ইউনিয়নের জোবায়দুল ইসলাম জোবেদ নামে এক ইউপি সদস্যের কাছে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি চোরের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেও কম দামে মোটরসাইকেলটি ক্রয় করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে চোরচক্রের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলছেন এলাকাবাসী।

মোটরসাইকেলের মালিক তৈয়ব আলী বলেন, “রেলওয়ে স্টেশন থেকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি পরে ইউপি সদস্য জোবেদের কাছে পাওয়া গেছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জোবেদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয়রা জানান, এলাকায় সম্প্রতি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে। তাদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের চুরির সাথে জড়িত।

সদর থানা ও ডিবি পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত মোটরসাইকেল উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুরিকাণ্ড ও ইউপি সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুরো এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা