June 27, 2026, 11:19 am

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা

ছয় মাস পর এবার কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স (সিন্দুক) খোলা হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে এবং জেলা প্রশাসনের কঠোর তত্ত্বাবধানে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দানবাক্স থে‌কে এবার স‌র্বোচ্চ ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গে‌ছে। পরে বস্তাভর্তি টাকাগুলো একে একে মসজিদের দু’তালায় নিয়ে মেঝেতে ঢেলে গণনার কাজ শুরু করা হয়।
টাকা গণনার কাজে জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার ১০৬ জন, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, পাগলা মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন স্টাফ, জেলা প্রশাসনের ১৩ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র‍্যাব ও ২০ জন আনসার অংশ নি‌য়ে‌ছেন।
সিন্দুক খোলার সময় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ না‌হিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, রূপালী ব্যাংকের শাখা প্রধান কিশোরগঞ্জ কর্পোরেট মোহাম্মদ আলী হারেছীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বছ‌রের ২৭‌ ডিসেম্বর মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। টাকা ছাড়াও ছিল বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও হীরা।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ‘পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ পর্যন্ত সরাসরি দানের ১১৪ কোটি টাকা ও অনলাইনে দানের ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা ব্যাংকে জমা আছে। এছাড়া মসজিদের দান করা বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জমা টাকার লভ্যাংশ থে‌কে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তা করা হয়।’

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা