September 27, 2026, 12:23 pm

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বোয়িং কেনার চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেয়েছে: মাহদী আমিন

বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত না থাকলেও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরেন। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। বিএনপি মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

মাহদী আমিন বলেন, সফরকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে ‘স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কো-অপারেশন’ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই পৃথক একটি সাইডলাইন বৈঠকে এ সমঝোতা সম্পন্ন হয়।

তিনি জানান, জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন। প্রতিটি আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিনের ভাষ্য, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ তরুণ ও নারীদের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশ্ব শান্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্ব শান্তির পক্ষেও জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন। ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিতে উঠলে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ওয়াকআউট করে প্রতিবাদ জানায়।

জাতিসংঘ সফরকে ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সফরকালে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

মাহদী আমিন আরও বলেন, স্বল্প সময় ও সীমিতসংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক। পাশাপাশি জাতিসংঘের আটটি প্রধান ইভেন্টে অংশ নিয়ে সাতটিতে বক্তব্য দেন তিনি।

সফরসূচির মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের আয়োজনে দুটি বিশেষ অনুষ্ঠান ছিল। এর একটি ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যটি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে। এ ছাড়া পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে আরও দুটি বৈশ্বিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন।

মাহদী আমিন বলেন, সফর থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও প্রেরণাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা