সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার নির্ধারিত পার্কিং এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া পাঁচটি পোড়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। নিখোঁজ দাবি করা পাঁচ পরিবারের নয় সদস্যের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মরদেহগুলোর নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
মরদেহগুলো অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পাঁচটি মরদেহের নমুনা ও নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের নয় সদস্যের ডিএনএ নমুনা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় সাধারণভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই পাঁচটি মরদেহ ও নিখোঁজ দাবি করা পাঁচ পরিবারের নয় সদস্যের নমুনা সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে কতদিন সময় লাগবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সিআইডির ফরেনসিক বিভাগকে অনুরোধ করা হবে।
বিস্ফোরণের পর থেকে মুগদা থানার উত্তর মান্ডা এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল কাজীর ছেলে ইমতিয়াজ কাজী (১৮) নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের দাবি, ভোলা থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার ভর্তি কাভার্ডভ্যান নিয়ে আশুলিয়ায় এসেছিলেন ইমতিয়াজ। তিনি ওই কাভার্ডভ্যানের চালকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। কাভার্ডভ্যানটি চালাতেন তাঁর শ্যালিকার ছেলে নুর ইসলাম। বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর ইসলাম মারা যান।
ইমতিয়াজের এখনো কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পাঁচটি মরদেহের মধ্যে তাঁর মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার। এ কারণে পরিচয় শনাক্তের জন্য আশুলিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় সিআইডিতে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন সাইফুল কাজী। তিনি দ্রুত পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ডিএনএ পরীক্ষার ফল পেতে সময় লাগার বিষয়ে সিআইডির মিডিয়া উইংয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, নমুনাগুলো পাওয়া গেছে। যেসব নমুনা এসেছে, সেগুলো হার্ড টিস্যু হওয়ায় রিপোর্ট পেতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে। সফট টিস্যু হলে তুলনামূলক কম সময় লাগত।