September 22, 2026, 6:24 am

বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ, অস্তিত্ব সংকটে বিপন্ন প্রাণীটি

আজ ২২ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব গণ্ডার দিবস। বিপন্ন এই বন্যপ্রাণী সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং গণ্ডারের অস্তিত্ব রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানাতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়।

বর্তমানে পৃথিবীতে গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি টিকে আছে। এর মধ্যে এশিয়ায় রয়েছে একশৃঙ্গী বা গ্রেটার ওয়ান-হর্নড, জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডার। অন্যদিকে আফ্রিকায় দেখা যায় সাদা ও কালো গণ্ডার। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের কারণে এসব প্রজাতি ক্রমেই অস্তিত্বের হুমকিতে পড়ছে।

গণ্ডারের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি হলো চোরাশিকার। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসায় গণ্ডারের শিংয়ের কথিত ঔষধি বা অলৌকিক গুণ রয়েছে এমন ভুল বিশ্বাসের কারণে শিংয়ের উচ্চমূল্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে প্রাণীটি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) লাল তালিকায় জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডারকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

একসময় অবিভক্ত বাংলার সমতল বন ও জলাভূমিতে বিপুলসংখ্যক একশৃঙ্গী গণ্ডারের বিচরণ ছিল। তবে বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বাংলাদেশ থেকে এ প্রাণীটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে প্রতিবেশী ভারত ও নেপালে সংরক্ষণ, নজরদারি ও চোরাশিকার নিয়ন্ত্রণের কারণে একশৃঙ্গী গণ্ডারের সংখ্যা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের আসামের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান ও পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচারের (ডব্লিউডব্লিউএফ) উদ্যোগে প্রথম বিশ্ব গণ্ডার দিবস পালিত হয়। পরের বছর ২০১১ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালনের পরিধি বাড়তে থাকে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠন সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা ও সেমিনারের আয়োজন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গণ্ডার শুধু একটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী নয়, বন ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণ্ডারের আবাসস্থল সংরক্ষণ, চোরাশিকার বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা