প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত চারজনই অটোরিকশার যাত্রী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের রাজ্জাক প্যাদার ছেলে কাইউম প্যাদা (৫০), চার আনি বাউরিয়া গ্রামের অনিল হাওলাদারের মেয়ে শিল্পী রানী (৪০), বদরপুর গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৫) এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের ধীরেন মিস্ত্রীর মেয়ে তিথী (২৩)।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাদের মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পানিতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
বাসের যাত্রী সালমান বলেন, বাসটি শুরু থেকেই বেপরোয়া গতিতে চলছিল। দুর্ঘটনার সময় কীভাবে কী হলো, তা বুঝে ওঠার আগেই বাসটি খাদে পড়ে যায়।
আরেক যাত্রী আবির ইসলাম বলেন, তারা তাবলিগ জামাতে যোগ দিতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যরাও সঙ্গে ছিলেন। বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি নাতিকে কোলে নিয়ে ছিটকে পড়েন। পরে দুজনই বেঁচে আছেন বলে চিৎকার করে জানান।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না এবং পানির নিচে আরও কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা দেখতে অভিযান চলছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে দুর্ঘটনায় আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।