September 19, 2026, 9:01 am

সুলতান আহমেদ মসজিদ। ছবি সংগৃহীত

জুমার দিনের ১৫ গুরুত্বপূর্ণ আমল

ইসলামে সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবার বা জুমার দিনকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে এ দিনের গুরুত্ব, ফজিলত এবং করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের জন্যও জুমার দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আগের জাতিগুলোর কাছে জুমার দিনের মর্যাদা স্পষ্ট ছিল না। ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রোববারকে নির্ধারণ করেছিল। এরপর মুসলিম উম্মতের কাছে জুমার দিনের মর্যাদা প্রকাশ করা হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৬)

জুমার দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য

আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জুমার দিনের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—

১. এই দিনে আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন।
২. এই দিনে তাঁকে পৃথিবীতে অবতরণ করিয়েছেন।
৩. এই দিনেই আদম (আ.)-এর মৃত্যু হয়েছে।
৪. জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে বৈধ কোনো দোয়া করলে তা কবুল হয়।
৫. এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)

জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলতের কারণে এ দিনে কিছু বিশেষ আমল পালনের প্রতি হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি আমল হলো—

১. ফজরের নামাজে সুরা সিজদা ও ইনসান তিলাওয়াত

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) শুক্রবারের ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা ও সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৬৮)

২. বেশি বেশি দরুদ পাঠ

জুমার দিনে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে তাঁর ওপর বেশি দরুদ পাঠ করতে, কারণ তা তাঁর কাছে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায়

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা। হাদিসে ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ পরিত্যাগ করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। (সুনানে দারেমি, হাদিস: ১৫২৪)

৪. গোসল করা

জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার

জুমার দিনে সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহারের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনে সুগন্ধি ব্যবহারের কথা বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)

৬. মেসওয়াক করা

জুমার দিনে গোসল ও মেসওয়াক করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য থাকলে সুগন্ধি ব্যবহারের কথাও হাদিসে এসেছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৫)

৭. জিকির ও তিলাওয়াতে সময় দেওয়া

জুমার দিনে নামাজ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতে বেশি সময় দেওয়ার প্রতি উৎসাহ রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, জুমার নামাজের আহ্বান হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যেতে এবং বেচাকেনা ছেড়ে দিতে। (সুরা জুমা: ৯)

৮. খুতবার সময় নীরব থাকা

ইমামের খুতবা চলাকালে কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা উচিত। এমনকি কাউকে ‘চুপ থাকো’ বলাকেও অনর্থক কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)

৯. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত হয়। (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)

১০. সুরা আলা, জুমা ও গাশিয়াহ তিলাওয়াত

রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার নামাজে সুরা আলা ও সুরা গাশিয়াহ তিলাওয়াত করতেন বলে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩) এছাড়া কিছু বর্ণনায় সুরা জুমা ও সুরা আলা তিলাওয়াতের কথাও পাওয়া যায়।

১১. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরা

জুমার দিন গোসল করে পবিত্রতা অর্জন, সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহারের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এসব আমল পালনের পাশাপাশি মসজিদে গিয়ে অনর্থক আচরণ না করার নির্দেশনাও রয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৯৭)

১২. মসজিদ পরিষ্কার ও সুগন্ধযুক্ত রাখা

মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধযুক্ত রাখার ব্যাপারেও হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। জুমার দিনে মসজিদে সুগন্ধি ব্যবহারের কথাও বর্ণিত হয়েছে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৭৫৯)

১৩. ইস্তেগফার ও নীরবতা অবলম্বন

জুমার নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে গিয়ে ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকা এবং ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার ফজিলত রয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৩৭২৯)

১৪. আসরের পর দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। অনেক আলেমের মতে, এ সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত হতে পারে। তাই এ সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮; আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

১৫. কবরের আজাব থেকে মুক্তির দোয়া

জুমার দিন ও রাতে মৃত্যুবরণকারীর কবরের আজাব সম্পর্কিত কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই কবরের আজাব থেকে মুক্তি ও পরকালের কল্যাণের জন্য দোয়া করা যেতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা