September 6, 2026, 3:09 pm

চসিক পরিচ্ছন্নতা বিভাগে ‘শালা-দুলাভাই’ প্রভাবের অভিযোগ নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি ঘিরে নানা প্রশ্ন; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

এসএম রওফ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা বিভাগে শ্রমিক-কর্মচারী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম এবং শ্রমিক-কর্মচারী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিক-কর্মচারী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম এবং শ্রমিক-কর্মচারী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী পারিবারিক সম্পর্কের পাশাপাশি চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগেও একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিক-কর্মচারী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী একসময় অস্থায়ী সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে শ্রমিক-কর্মচারী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলমের সুপারিশ ও প্রভাবের মাধ্যমে তিনি পরিচ্ছন্ন তত্ত্বাবধায়ক পদে উঠে আসেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে জ্যেষ্ঠ ৩৩ জনকে পেছনে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া শ্রমিক-কর্মচারী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জাপানে পড়াশোনার জন্য মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। যোগ্য ও স্থায়ী অনেক সুপারভাইজারকে পেছনে ফেলে কীভাবে তিনি এ সুযোগ পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, শিক্ষা ছুটিতে থাকাকালীনও সরকারি ওয়াকিটকি ও মোটরসাইকেল সুবিধা ভোগ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। দীর্ঘ সময় ধরে এসব সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সম্প্রতি শ্রমিক-কর্মচারী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার দায়িত্ব হারানোর পর একই পদে শ্রমিক-কর্মচারী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরীকে বসানোর চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের দাবি, সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বর্তমান পদ ও গ্রেডের সঙ্গে ষষ্ঠ গ্রেডের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মচারী। তবে এ অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতা বিভাগের নিয়োগ, বদলি, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এবং ময়লা অপসারণসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মচারীদের একটি অংশের দাবি, “পরিচ্ছন্নতা বিভাগ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এখানে জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে পদায়ন ও পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।”

তাঁরা আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারীকে কথিত প্রভাব ও নৈরাজ্য থেকে মুক্ত করতে হলে নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের বিষয়গুলো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম এবং শ্রমিক-কর্মচারী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তই পারে প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা