ইরান-সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষার স্বার্থে এসব নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
বৃহস্পতিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ওয়াশিংটনের একতরফা এই পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের মধ্যকার স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেনে অযাচিত হস্তক্ষেপ সৃষ্টি করছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে উল্লেখ করে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের এই ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের তাগিদ দেন তিনি। সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অন্যান্য দেশকে ইরান থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার আহ্বান জানালে চীন ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ তার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, কুয়েতের ভূখণ্ডে চালানো এই আক্রমণ দেশটির সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের সামরিক তৎপরতা ওই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কুয়েতে সংঘটিত হামলা এবং এর সম্ভাব্য সব পরিণতির জন্য ইরানই আইনগতভাবে দায়ী থাকবে। কুয়েতের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির গৃহীত যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে কাতার। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি এড়াতে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে পূর্ববর্তী কূটনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সব পক্ষকে অবিলম্বে সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দোহা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তার জবাবে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার দাবি করেছিল তেহরান।