প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি খুলনা বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি সভা ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই, শনিবার সকাল ১১টায় যশোরের সদর উপজেলার ‘লাক্সারী ডাইন’-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি কাজী নাজির আহম্মেদ মুন্নুর সভাপতিত্বে এবং সেলিম রেজা বাবুলের নিখুঁত পরিচালনায় সভাটি সম্পন্ন হয়।
সংকটে ইটভাটা শিল্প: মূল আলোচনা ও সংকটসমূহ
সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি কাজী নাজির আহম্মেদ মুন্নু। এরপর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব খাজা নাসিরউদ্দীন শান্তি সভার মূল বক্তব্য ও ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী ইটভাটা পরিচালনার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন। পরবর্তীতে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের ইটভাটা মালিকদের চরম সংকটের কথা তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগের ইটভাটা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও খুলনা জেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান জমাদ্দার,
আলোচনায় ইটভাটা মালিকদের বর্তমান সময়ের প্রধান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উঠে আসে।
লাইসেন্স নবায়নে জটিলতা: পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কর্তৃক প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নবায়ন না করায় বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও লোকসান: ইট প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ইটের কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য না থাকায় মালিকপক্ষ ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মাটি সংগ্রহে বাধা: ইট তৈরির প্রধান উপাদান মাটি সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে।
আইন সংশোধন ও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
সভায় বক্তারা সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ২০১৩ ও ২০১৯ সালের বিদ্যমান পরিবেশ আইন বর্তমান বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই আইনের প্রয়োজনীয় ও পরিবেশ-উপযোগী সংশোধনের মাধ্যমে দ্রুত লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
কঠোর হুঁশিয়ারি: ইটভাটা মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাব করা হয় যে, যদি প্রশাসন ও সরকার তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে না নেয়, তবে তীব্র প্রতিবাদ স্বরূপ আগামী ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে খুলনা বিভাগের সকল ইটভাটা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
সভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সকল জেলা প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ইটভাটা মালিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি কাজী নাজির আহম্মেদ মুন্নু।