হাকিকুল ইসলাম খোকন:
বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাইমারী নির্বাচনে গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, এটর্নী জেনারেল পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এসব পদের কোন কোন আসনে ডেমেক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান দলের অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় বা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নতুন ও দূর্বল থাকায় কোন কোন আসনে তারা সহজেই জয়লাভ করেছেন। দলীয় প্রাইমারীতে নির্বাচিত হলেও আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে অর্থাৎ মূল নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন। যারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তাদের আন অফিশিয়ালী তাদের নাম ঘোষণা করেছে বোর্ড অব ইলেকশন। এই নির্বাচনে শুধুমাত্র রেজিষ্টার্ড ভোটাররাই ভোট দিয়েছেন। প্রাইমারীতে এবার ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্কুলে ও বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল ৬টা থেকে থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলে।
ইউএস কংগ্রেস সদস্য পদ সহ নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট ও ষ্টেট অ্যাসেম্বলী সদস্য নির্বাচন হয়েছে। এছাড়াও জুডিশিয়াল ডেলিগেট ও অলটারনেট জুডিশিয়াল ডেলিগেট নির্বাচন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬)নির্বাচনে মূলধারায় বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত যেসব প্রার্থীদের মধ্যে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল, এটর্নী জেনারেল লেটেশিয়া জেমস, কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফ্রিজ, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ, গ্রেগরী মিক্স ও গ্রেস মেং সহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী।খবর আইবিএননিউজ ।
গভর্ণর পদের আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী গভর্নর ক্যাথি হোকুল এর সাথে রিপাবলিকান দলের ব্রুস ব্লেকম্যান গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিসাবে গভর্নর ক্যাথি হোকুল প্রাইমারীতে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জয়ী হয়ে দলের মনোনয়ন নিয়ে ৩ নভেম্বর নির্বাচনে অংশ নিবেন। অপরদিকে ব্রুস ব্লেকম্যান রিপাবলিকান পদে প্রার্থী হিসাবে প্রাইমারীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন
২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর গভর্নর ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক নির্বাচনটি (প্রাইমারী) ২০২৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং এতে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় প্রাথমিক নির্বাচনটি বাতিল করা হয়। নিউইয়র্কে গভর্নর ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদের প্রার্থীরা প্রাথমিক এবং সাধারণ-উভয় নির্বাচনেই একটি যৌথ প্যানেল বা ‘টিকিট’-এর মাধ্যমে একসাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৩৬টি গভর্নর নির্বাচনের মধ্যে একটি। গভর্নর হলেন রাজ্যের সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তিনিই একমাত্র নির্বাহী পদাধিকারী যিনি ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ২৬ জন রিপাবলিকান এবং ২৪ জন ডেমোক্র্যাট গভর্নর দায়িত্বে রয়েছেন।
ইউএস কংগ্রেশনাল নির্বাচন
ইউএস কংগ্রেস সদস্য পদ সহ নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট ও ষ্টেট অ্যাসেম্বলী সদস্য নির্বাচনের প্রাইমারীতে যেসব কংগ্রেশনাল আসলে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন এরমধ্যে ছিল কংগ্রেশনার ডিষ্ট্রিক্ট-২, ৪, ৫, ৮, ১৮, ১৯, ২০, ২২ ও ২৬। বাকি আসনগুলোতে একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন হয়েছে।
অপরদিকে রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারীতে নির্বাচনে যেসব কংগ্রেশনাল আসলে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন এরমধ্যে ছিল কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট-১, ২, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২০, ২২, ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬। এছাড়াও কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট-৩, ৪, ১৯ ও ২১ সহ বাকি আসনগুলোতে একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট সদস্য পদের ১২টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। এরমধ্যে সিনেট ডিষ্ট্রিক্ট ১২, ১৩, ১৫, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯, ৩১, ৩৯, ৪৪, ৫৪ ও ৬১ আসনে নির্বাচন হয়।
এছাড়াও নিউইয়র্ক ষ্টেটের ৪১টি অ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্টে নির্বাচন হয়েছে। এরমধ্যে ছিল-২৩, ২৮, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪৩, ৪৬, ৫০, ৫২, ৫৪, ৫৬, ৫৭, ৫৯, ৬৫, ৬৬, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৫, ৮১, ৮২, ৮৪, ৮৭, ৯০, ৯৬, ১০২, ১০৬, ১০৯, ১২০, ১২৩, ১২৯, ১৩০, ১৩৭ ও ১৪৯।
নিউইয়র্ক-এর এটর্নী জেনারেল নির্বাচন
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদের প্রাথমিক নির্বাচনটি ২০২৬ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা ছিল ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল। কিন্তু কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় এই প্রাথমিক নির্বাচনটি বাতিল করা হয়। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদের সাধারণ নির্বাচনে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস এবং সারিতা কোমাটিরেডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ষ্টেট অ্যাটর্নী জেনারেল রাজ্যের আইন প্রণয়ন করে থাকেন।
নিউইয়র্ক সিটি ও ষ্টেট নির্বাচন
মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত প্রাইমারী নির্বাচনে যেসব পদে নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক কম্পট্রোলার পদের নির্বাচন ছিলো বহুল আলোচিত। কম্পট্রোলার পদে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিল ৬,০০২,০০৬ জন। এই পদে ডেমোক্র্যাটিক দলের একাধিক প্রার্থী থাকলেও এই পদে আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হিসাবে সাধারণ নির্বাচনে (৩ নভেম্বর) মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কম্পট্রোলার পদে থমাস পি. ডিনাপোলি জয়ী হয়েছেন। অপরদিকে নিউইয়র্কের জুডিশিয়াল ডেলিগেট ও অলটারনেট জুডিশিয়াল ডেলিগেট পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব পদে একাধিক প্রার্থী ছিলো।
এবারের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারীতে কংগ্রেসনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৬ এর সকল কাউন্টি মিলে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিলো ২,০৯,৫৩৬। এই আসনে পুনরায় জয়ী হয়েছেন গ্রেস মেং। কংগ্রেসনাল ডিষ্ট্রিক্ট-১০ এর সকল কাউন্টি মিলে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিলো ৩,২১,৪৭৬ জন। ড্যান গোল্ডম্যান ও ব্র্যাড ল্যান্ডার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হয়। এতে ব্র্যার্ড ল্যান্ডার জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেসনাল ডিষ্ট্রিক্ট-১৪ এর সকল কাউন্টি মিলে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিলো ২,৫৪,১৬৯। এই আসনে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ পুনরায় জয়ী হন। সিনেট ডিষ্ট্রিক্ট-১২ এর সকল কাউন্টির মোট নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিলো ৯৮,৭৯১ ভোটার। প্রাইমারীতে জয়ী হয়েছেন আবের কাওয়াস। তবে স্টিভেন বি. রাগা ভাল করলেও জয় মিলেনি। সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১৩ এর সকল কাউন্টি মিলে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ৮৩,৯০১ জন। এই আসনে জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস জয়ী হয়েছেন। জয়ী হতে পারেননি জেসিকা রামোস।
নিউইয়র্কের অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০ এর সকল কাউন্টি মিলে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিলো ৩৫,০৬০। এই আসনে মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন প্যাট্রিক মার্টিনেজ। নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান শামসুল হক। জয়ের জন্য তার মাত্র ১৪ ভোটের দূরত্ব কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩২ এর সকল কাউন্টি মিলে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ৫৪,৩১০। জয়ী হয়েছেন নাথানিয়েল হিজেকিয়া। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান মোহাম্মদ জে. মোল্লা। অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৬ এর সকল কাউন্টিতে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ৫৬,১৩৮। পুনরায় জয়ী হয়েছেন ডায়ানা সি. মোরেনো। নির্বাচনে দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান মেরি জোবাইদা। অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৭ এর সকল কাউন্টিতে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিলো ৪৭,৬৯৬। একাধিক প্রার্থীর মধ্যে সামান্থা কাটান জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশী-আমেরিকান পিয়া রহমান তৃতীয় হয়েছেন। অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৩৮ এর সকল কাউন্টিতে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ৩৯,৫৮১। বেশি ভোট জয়ী হয়েছেন ডেভিড অরকিন। এই আসনের বর্তমান অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার পরাজিত হয়েছেন। তার পরাজয় কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩৯ এর সকল কাউন্টি নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ৩৩,৮৪৪ জন। ক্যাটালিনা ক্রুজ জয়ী হয়েছেন। ৫৪ অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট, সমস্ত কাউন্টিতে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ৪৯,০৯০। ক্রিশ্চিয়ান সেলেস্তে টেট জয়ী হয়েছেন। অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৬৬ এর সকল কাউন্টিতে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ছিলো ৫৯,৯৫৫ জন। এই আসনে জয়ী হয়েছেন জেনিন কাইলি। অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৮৭, সমস্ত কাউন্টিতে নিবন্ধিত সক্রিয় ডেমোক্র্যাট ভোটার ৪৭,৪১০ জন। এই আসনে জয়ী হয়েছেন কারিনেস রেইয়েস। নির্বাচনে প্রথবারের মতো অংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান জাকির চৌধুরী সিপিএ।
অন্যান্য প্রসঙ্গ
২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে দেখা যাচ্ছে যে, ২৩টি রাজ্যে রিপাবলিকানদের এবং ১৬টি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের ‘ট্রাইফেক্টা’ রয়েছে। এছাড়া ১১টি রাজ্যে বিভক্ত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান যেখানে কোনো দলেরই ট্রাইফেক্টা নিয়ন্ত্রণ নেই। একইভাবে ২৪টি রাজ্যে রিপাবলিকানদের এবং ২১টি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের ‘ট্রাইপ্লেক্স’ রয়েছে এবং পাঁচটি রাজ্যে বিভক্ত সরকার ব্যবস্থা রয়েছে যেখানে কোনো দলেরই ট্রাইপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ নেই। রাজ্য সরকারের ‘ট্রাইফেক্টা’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে একটি দল রাজ্যের গভর্নর পদ এবং রাজ্য আইনসভার উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ন্ত্রণ করে। ‘ট্রাইপ্লেক্স’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে গভর্নর, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সেক্রেটারি অফ স্টেট-এই তিনজনই একই রাজনৈতিক দলের সদস্য। উল্লেখ্য, ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে গভর্নর পদের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মধ্যে থাকছেন- বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুল (ডেমোক্র্যাটিক), ব্রুস ব্লেকম্যান (রিপাবলিকান/কনজারভেটিভ পার্টি), ল্যারি শার্প (লিবার্টারিয়ান), এমি টেলর (ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি), জিন অ্যাংলেড (স্বতন্ত্র) জোনাথন মাকলি (প্রহিবিশন পার্টি) (রাইট-ইন)।