বরগুনার আমতলীতে জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতে বাদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা আব্দুল গনি মোল্লা (৭০) নামে এক সাক্ষীকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত গনি মোল্লা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার চাওড়া তালুকদার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের ঈসমাইল খানের সঙ্গে মো. নাসির উদ্দিন বধু মিয়ার ৫.২৩ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরে ঈসমাইল খান বাদী হয়ে নাসির উদ্দিন বধু ও তার ছেলে এহছানুলকে আসামি করে ২০১৪ সালে বরগুনার সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২০৪/২০১৪)।
১৯ এপ্রিল মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। এদিন বাদী ঈসমাইল খান সাক্ষী আব্দুল গনি মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে যান এবং তিনি যথারীতি সাক্ষ্য প্রদান করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে রবিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের তালুকদার বাজারে পৌঁছালে মামলার আসামি নাসির উদ্দিন বধু ও তার ছেলে এহছানুল সাক্ষী আব্দুল গনি মোল্লাকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
আহত গনি মোল্লার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে আসামিরা তাকে রাস্তার ওপর ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
মামলার বাদী ঈসমাইল খান অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল গনি মোল্লাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন বধুর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।