খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার হাসিবুনিয়া গ্রামে সোমবার বিকাল ৫টায় এসিআই কোম্পানির আয়োজনে সূর্যমুখী বীজ (হাইসান-৩৬) জাতের ওপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মাঠ দিবসে সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তহিদ আলম ভূঁইয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এসিআই বীজের প্রোডাক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ গোলাম সোবহান এবং এরিয়া ম্যানেজার মিরাজ আলী। উক্ত মাঠ দিবসটি পরিচালনা করেন মোঃ ইসরাফিল হোসেন, টেরিটরি এক্সিকিউটিভ, ডুমুরিয়া। মাঠ দিবসে কৃষক ও কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাইসান-৩৬ একটি উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাত। এটি লবণাক্ততা সহিষ্ণু হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া এই জাতের বীজে তেলের পরিমাণ অন্যান্য সাধারণ জাতের তুলনায় বেশি (প্রায় ৪২-৪৪%)।
তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, স্বল্প মেয়াদি হওয়ায় এই জাতটি দ্রুত ঘরে তোলা যায়, ফলে একই জমিতে পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগ থাকে। ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় সূর্যমুখী চাষে সেচ ও সারের প্রয়োজন তুলনামূলক কম, যা কৃষকের মুনাফা বাড়াতে সহায়তা করে।
প্রধান অতিথি বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সূর্যমুখীর স্বাস্থ্যসম্মত তেল উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সূর্যমুখী তেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং কোলেস্টেরলমুক্ত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
বক্তব্যের সমাপনী অংশে তিনি বলেন, “সরকার কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। হাইসান-৩৬-এর মতো উন্নত জাত চাষ করে আমাদের কৃষকরা একদিকে যেমন লাভবান হবেন, অন্যদিকে দেশ ভোজ্য তেলের ঘাটতি কাটিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবে। আমি আশা করি, সামনের মৌসুমে এই এলাকার প্রতিটি কৃষক সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হবেন।”
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া, খুলনা।