ডেস্ক রিপোর্ট ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকা থেকে গলা কেটে হত্যা করা শিশু কন্যার ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল। তিনি জানান, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বাংলাদেশ পুলিশ-এর চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড থানায় সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
গত রোববার (১ মার্চ) সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। সোমবার (২ মার্চ) তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে পুনরায় নাক, কান ও গলা (ইএনটি) ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত শিশুর চাচা আজিজ জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময়ও শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল ছিল এবং সে ইশারায় স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছিল। তবে রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে তার শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। সে পানি ও খাবার চাইছিল, কিন্তু চিকিৎসকদের নিষেধ থাকায় কিছু দেওয়া সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসক ও অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের আলামত পাওয়া গেছে। শরীরের অভ্যন্তরীণ অংশে আঘাতের মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে উরুর অংশে কাটাছেঁড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে শিশুটি ইশারায় কিছু তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং একটি নামও নির্দেশ করেছিল, যদিও তা স্পষ্ট ছিল না।
চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা প্রথম তাকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ১ মার্চ রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।