নিজস্ব প্রতিবেদক:
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকায় চিকিৎসাধীন সিনিয়র সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট জেমস আব্দুর রহিম রানার ক্ষতিগ্রস্ত পায়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার সকালে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চিকিৎসার অংশ হিসেবে এবারের অস্ত্রোপচারটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১২ সেপ্টেম্বর অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার তীব্র অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। ওইদিন তিনি অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছে অপারেশন টেবিলেও উঠেছিলেন। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি জেমস আব্দুর রহিম রানা। বরং দীর্ঘ চিকিৎসাকালীন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, নিটোরের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তিনি আন্তরিকতা ও সহযোগিতা পেয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বরের অস্ত্রোপচার স্থগিত হওয়াকে তিনি নিজের দুর্ভাগ্য ও ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হিসেবে দেখছেন বলে জানান।
গত ২৭ মে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পায়ে গুরুতর আঘাত পান জেমস আব্দুর রহিম রানা। দুর্ঘটনায় তার পায়ের হাড় একাধিক অংশে ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ত্বক ও নরম টিস্যুতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর ২৮ মে তাকে নিটোরে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসায় ইতোমধ্যে একাধিক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
চিকিৎসার এই দীর্ঘ সময়ে আর্থিক সংকটও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ত্রোপচার, ইমপ্ল্যান্ট, ওষুধ, ড্রেসিংসহ চিকিৎসার বিভিন্ন ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি আর্থিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তারপরও দেশ-বিদেশের স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও মানবিক মানুষদের সহযোগিতা এবং চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেমস আব্দুর রহিম রানা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ডা. মো. ইদ্রিস আলীর প্রতি। তিনি জানান, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী তার চিকিৎসাধীন গ্রীন-২ ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক না হলেও সংকটময় সময়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য উৎসাহিত করেছেন। গ্রীন-২ ইউনিটের চিকিৎসকদেরও তার পাশে থাকার জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান রানা।
এছাড়া গ্রীন-২ ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, ডা. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দল এবং প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ চিকিৎসাকালে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তার চিকিৎসায় আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।
নিটোরের নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই সাংবাদিক। তার মতে, কঠিন চিকিৎসাযাত্রায় অনেকের ছোট ছোট সহযোগিতা এবং সাহস জোগানো কথাও একজন অসহায় রোগীর জন্য বড় আশ্রয় হয়ে ওঠে।
জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের অস্ত্রোপচার তার চিকিৎসাযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এই অস্ত্রোপচারের পরই তার সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ হচ্ছে না। অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়েও তাকে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ড্রেসিং ও প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে চিকিৎসার প্রয়োজনে নিটোরে আসতে হলে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত যে মানবিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতা পেয়ে এসেছেন, তা অব্যাহত থাকবে।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য দেশ-বিদেশের আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন জেমস আব্দুর রহিম রানা।
বর্তমানে তিনি নিটোরের গ্রীন-২ ইউনিট, ইএফ ওয়ার্ডের ২২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।