September 15, 2026, 6:32 pm

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসা নীতি স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদ সীমিত করার নতুন ভিসা নীতি আপাতত স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। নীতিটি কার্যকর হওয়ার একদিন আগে সোমবার ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেনিস সেলর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত নতুন নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছরে সীমাবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। চার বছর পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে তাদের নতুন করে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো। বিদ্যমান ব্যবস্থায় অবশ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন।

নতুন নীতিতে বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তাদের অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস নির্ধারণ করা হয়। এরপর ভিসা নবায়নের সুযোগ থাকলেও আগের নিয়মে একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ ছিল। চীনা সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত নিয়ম ছিল আরও কঠোর। তাদের ৯০ দিনের ভিসা দেওয়ার পাশাপাশি একই মেয়াদের জন্য নবায়নের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছিল।

এই নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট আদালতে মামলা করে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিধি কার্যকর না করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সেলর। আগামী ২ অক্টোবর এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

স্থগিতাদেশের আদেশে নতুন বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক উদার অভিবাসন ও শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী দেশটিতে এসেছেন। তাদের অংশগ্রহণে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও ভূমিকা রেখেছে।

বিচারপতির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধনের পরিবর্তে ডিএইচএস এমন একটি কাঠামো প্রস্তাব করেছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কঠিন করে তুলতে পারে।

নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ডিএইচএস কর্মকর্তাদের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে এসেছে। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকর আপিলের সুযোগ না থাকায় বিদেশি নাগরিকদের পড়াশোনা, গবেষণা কিংবা শিক্ষকতার ধারাবাহিকতা হঠাৎ করেই বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিচারপতি।

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ভিসা নবায়ন না হলে তাদের প্রতিকার পাওয়ার আইনি সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সরকারের বা ডিএইচএস কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এই ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন আদালত।

ডিএইচএস নতুন বিধিনিষেধের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরেছিল। তবে বিচারপতি সেলর সেই যুক্তির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে যে কয়েকটি কাল্পনিক পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে, তা এই ধরনের ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের জন্য যথেষ্ট নয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বিভিন্ন পথ সংকুচিত করার নীতির ধারাবাহিকতায় এই ভিসা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছেন। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা