September 1, 2026, 6:25 pm

বৃষ্টিস্নাত নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস

১০১ একরের ক্যানভাসে তখন মেঘের গুরুগম্ভীর মন্দ্রস্বর। চারদিকের রোদ ঝলমলে সাদা মেঘের ভেলা হঠাৎ ধূসর রঙের আবরণে আবৃত করেছে নিজেকে। পরক্ষণেই মেঘের আভাসেই বৃষ্টির মোহময়তা সৃষ্টি। ধূসর নাগরিক ব্যস্ততা ধুয়ে-মুছে চারপাশ রূপ নেয় এক জীবন্ত জলছবিতে। নোবিপ্রবিয়ানদের ভাষ্যমতে- নোবিপ্রবির আবহাওয়া সবসময় এমনই চমকপ্রদভাবে সকলকে অভিভূত করে।

বসে আছি উপকূলীয় অক্সফোর্ড খ্যাত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১০১ একরের চিরচেনা জায়গা নীলদীঘির পাড়ে। টুপ টুপ করে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে জলের উপর। দীঘির জল তার নিজস্ব স্থবিরতা হারাচ্ছে বারংবার। মনে হচ্ছে বৃষ্টির জল আর নীলদীঘির জলতরঙ্গের প্রকৃতি এক হয়েও অনন্য। কেউ কারো সঙ্গে আবদ্ধ না হতে চেয়েও পরস্পরের আরাধ্য। মোহনীয় সে দৃশ্য যে প্রকৃতিপ্রেমী নয় তাকেও মুগ্ধ করতে বাধ্য !

ফুলপ্রেমী মানুষ মাত্রই নোবিপ্রবির বৃষ্টিকে লুফে নিবে অবলীলাক্রমে। বৃষ্টি ভেজা ফুলের সৌন্দর্য নোবিপ্রবির মাহাত্ম্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। গাছের পাতা বেয়ে টুপটুপ করে ঝরে পড়া জল আর ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ মিলেমিশে এক অদ্ভুত মাদকতার সৃষ্টি করে।

বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা কেউ ছোটেন রঙ বেরঙের ছাতা মাথায় ক্লাসের উদ্দেশ্যে,কেউ এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের অনুষঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় করেন,কেউবা বৃষ্টিকে উপভোগ করতে বেরিয়ে যান ক্যাস্পাসের নানা আঙিনায় খেলা কিংবা মাছ শিকারের অভিযানে। আস্ত স্মৃতির বাক্স নোবিপ্রবির সাদা-নীল বাস এবং লাল বাসে ছুটেন কেউ কেউ। সিটে বসে অথবা গাদাগাদি করে বাসে দাঁড়িয়ে কাকভেজা অবস্থায় বৃষ্টি উপভোগ করার দৃশ্যও চোখে পড়ে।

বৃষ্টির দাপট শেষে মেঘেদের বিদায়লগ্নে যখন রোদ উঁকি দেয়,তখন শান্ত নোবিপ্রবি ক্যানভাসে নেমে আসে মায়াবী স্নিগ্ধতা। বৃষ্টির ছোঁয়ায় ১০১ একরের বৃক্ষরাজি নতুন যৌবন ফিরে পায়। ঝুম বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের ঐক্যতান এবং হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির জল ছোঁয়ার মতো অনুভূতি শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ক্লান্তি নিমেষেই দূর করে দেয়। সাবেক,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নোবিপ্রবিয়ানদের কাছে তাই বৃষ্টির সুর ও ছন্দময়তা নস্টালজিয়ার জন্ম দেয়।

লেখক: সেলিনা জিন্নাত ঐশী
শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা