মোহাম্মদ আসাদ-স্টাফ রিপোর্টার :
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত কার্ডের প্রায় অর্ধেকই দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ এসব কার্ড বিএনপির নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে জানা গেছে। সরকারি সহায়তা দলীয়করণের অভিযোগে এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নের অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার মোট ৮ হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেয়। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী ইউনিয়নের জন্য মোট ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ মোট বরাদ্দের অর্ধেক, অর্থাৎ ৪ হাজার ২৪টি কার্ড সরাসরি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল, সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলমসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের তালিকা প্রণয়ন করে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের কথা। তবে কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিংবা তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) ছাড়াই প্রকাশ্যে দলীয় নেতাদের হাতে বিপুল পরিমাণ কার্ড তুলে দেওয়ায় বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ভিজিএফের চাল গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ হলেও তা রাজনৈতিকভাবে বণ্টন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এভাবে কার্ড বিতরণ করা হলে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হবেন এবং সুবিধা পাবে দলীয় নেতাকর্মীদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, “দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ভিজিএফ কার্ড উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে তুলে দিয়েছি, যাতে ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো চাপ না আসে।”
তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স দাবি করেন, দল থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “সরকারি ভিজিএফ কার্ড যেন প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েই নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে কার্ড ও চাল বিতরণ করার কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে একসঙ্গে কার্ড হস্তান্তরের বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, সরকারি ত্রাণ বা ভিজিএফ কার্ড রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্ড বিতরণ করা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।