পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন শতাধিক। দফায় দফায় সংঘর্ষ হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
এতে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আসার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সহিংসতায় নিহতদের মধ্যে তৃণমূল বিজেপি উভয় দলেরই কর্মী রয়েছেন। কলকাতার বেলেঘাটায় তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৪৫) রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছেন। পরিবারের দাবি, তাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নিউ টাউনে তৃণমূল সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল (৪৬) প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মী যাদব বার (৪৫) এবং বীরভূমের নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখ (৪৫) নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। প্রতিটি খুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এ খবর দিয়েছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
অফিস দখল ও ভাঙচুর
ফলাফল ঘোষণার পর কলকাতার একাধিক এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূলের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি সমর্থকরা বুলডোজার দিয়ে বিরোধীদের বিভিন্ন বাসা বাড়ি অফিস গুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।
দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পার্টি অফিস ভাঙচুর করে সেখানে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভবানিপুর এলাকায় একটি কাউন্সিলর অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসেও ছাত্র সংগঠনের মধ্যে হাতাহাতি ও পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজেপি ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা বাঁধা দেয়।