নির্বাচনের তফসিল এখনও ঘোষণা না হলেও বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি, তুলে ধরছেন নিজেদের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনা।
সরকারের পক্ষ থেকে ঈদুল আজহার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণার পর থেকেই উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নির্বাচনী মাঠ । এরই মধ্যে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছেন আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম লিচু।
নজরুল ইসলাম লিচু নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে এবারের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন যুগ ধরে তিনি নিজ অর্থায়নে নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। এর মধ্যে রয়েছে,গ্রামীণ সড়ক ও কাঁচা রাস্তা সংস্কার,মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানার অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ প্রদান , শিক্ষার্থীদের সহায়তা,অসহায় ও দুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান,বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ,বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন,যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সামাজিক,কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ । এছাড়া তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচিও পরিচালনা করে আসছেন।
এলাকাবাসীর মতে, আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম লিচু পারিবারিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বাড়ছে। সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম লিচু বলেন, “আমি দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ ধরে মানুষের সেবা করে আসছি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই আমি নিজের তৃপ্তি খুঁজে পাই। আমি প্রায় ১৮ বছর মেম্বার ছিলাম,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলাম,মেম্বার এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। কেউ বলতে পারবে না, আমি কোনো কাজের বিনিময়ে অর্থ নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে “নিলক্ষিয়া ইউনিয়নবাসী যদি আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কাজ করব। সরকারের বরাদ্দ যথাযথভাবে বণ্টন করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেব। পাশাপাশি নিলক্ষিয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত,মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাত্তার পদত্যাগ করে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ইউনিয়নে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। সে সময়ও নজরুল ইসলাম লিচু চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে নির্বাচনটি স্থগিত হয়ে যায়।
মোহাম্মদ আসাদ-স্টাফ রিপোর্টার ।