September 21, 2026, 12:39 pm

বাসাইলে ১০ কোটি টাকার ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্রিজের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের পরিবর্তে রাতে কাজ করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয় কয়েকজন গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে রাতে ব্রিজের ঢালাইয়ের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের দৃশ্য দেখতে পান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, ‘আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, এই ব্রিজে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকাগুলো তাহলে গেল কই? আর এত দুর্নীতি করতেছে আমাদের এই ব্রিজে! এই ঠিকাদারের সঙ্গে আরও হয়তো স্থানীয় মানুষ জড়িত আছে। নয়তো ঠিকাদার তো এই জায়গায় এসে এভাবে সাহস পাবে না বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার। সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ‘ব্রিজটির কাজ করবে দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। রাতে এলাকার ছেলেরা ব্রিজে দেখে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দিতেছে। কিছু বালি-সিমেন্ট ও বাঁশ শুধু ঢালাই দিতেছে।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা, ভেতরের তো শাটার বের করার সুযোগ নাই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি, আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এইটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি।’

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে এর মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ব্রিজটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা