ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের অনাদায়ী সরকারি মৎস্য ঋণ আদায়ে সাফল্য দেখিয়েছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য বিভাগ। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা সরকারি ঋণ আদায় করেছে বিভাগটি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ পরিমাণ ঋণ আদায় খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি মাসেই আদায়ের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন কর্মকর্তারা।
মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, আদায়কৃত ঋণের বড় একটি অংশ ১৫ থেকে ১৭ বছর ধরে অনাদায়ী ছিল। এসব টাকা আদায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ, নোটিশ প্রদান, গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ঋণগ্রহীতাদের শনাক্তকরণ এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাগাদাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এতে সাড়া দিয়ে আমেনা বেগম গং, নীহার কবিরাজ, চৈতন্য কবিরাজ, অভিজিৎ কুণ্ডু ও মো. রুহুল শেখসহ কয়েকজন সম্প্রতি তাদের সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করেছেন।
তবে ঋণ আদায়ের এ উদ্যোগে নানা প্রতিবন্ধকতারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো কোনো ঋণগ্রহীতা পাওনা পরিশোধের পরিবর্তে কটু কথা ও দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ নামে-বেনামে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, একজন সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তির কাছে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে সরকারি মৎস্য ঋণের টাকা পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা পরিশোধের বিন্দুমাত্র লক্ষণ নেই। বরং পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দেওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে মৎস্য বিভাগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব বাধা ও অপপ্রচারে পিছিয়ে যায়নি ডুমুরিয়া মৎস্য বিভাগ। কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি অর্থ আদায় করা তাদের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা মহলের চাপের কারণে এ দায়িত্ব থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।
ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, “সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের সেবা এবং মাছ-চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি আমাদের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের বকেয়া ঋণ আদায়ে নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কোনো বাধা বা অপপ্রচার সরকারি স্বার্থ রক্ষার এ কার্যক্রম থামাতে পারবে না।”
স্থানীয় মৎস্যচাষী ও মৎস্যজীবীদের মতে, দীর্ঘদিনের বকেয়া সরকারি ঋণ আদায়ে ডুমুরিয়া মৎস্য বিভাগের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সরকারি অর্থ ফেরত আসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার প্রবণতাও কমবে।