চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ এর শুরুতে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গন্তব্যের পথে বাধা আসলেও আমরা লড়াই করতেই নেমেছি। জনগণের অধিকারের জন্য আমরা আমাদের গন্তব্যে ইনশাআল্লাহ পৌঁছাবো, কোনো বাধাকেই আমরা পরোয়া করব না।’
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
দেশের জনগণ বিভিন্ন সংকটে অতিষ্ঠ মন্তব্য করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নেই, পানি নেই, ইলেকট্রিসিটি নেই, কিন্তু গ্যাসের বিল যথারীতি আছে। বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া সিফাতের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘অতিষ্ঠ হয়ে ওই তরুণ প্রতিবাদ করেছে। তার মুখের ভাষা সমর্থন না করলেও যে বিষয়ে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, সেই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জে উঠবে।’
সিফাতকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালোয় ভালোয় তাকে ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি উলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, তা কেউ বলতে পারে না।’
লংমার্চ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘জনগণের দাবি আদায়ের অঙ্গীকার পূরণ করতেই এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কর্মসূচি নিয়ে ‘ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ শুরু হয়েছে।’’
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হকসহ জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।
সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে।