গবেষক গ্যাব্রিয়েল হ্যারি জানিয়েছেন, আগামী ১০০ কোটি বছর পর সূর্যের মূল জ্বালানি শেষ হলে এটি লোহিত দানবে পরিণত হবে, যা পৃথিবীর পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। এই প্রক্রিয়ায় সূর্য পৃথিবীকে গিলে ফেলতে পারে এবং মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হয়ে যাবে।
গ্যাব্রিয়েল হ্যারি তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন যে, মানবজাতি বা পৃথিবীর প্রাণকে বাঁচানোর জন্য অন্য নক্ষত্রজগতে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং, সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১-এ একটি বিশাল সৌর-আবরণ বা 'সানশেড' স্থাপন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, এই সানশেড তৈরি করতে চাঁদের মাত্র ০.০১ শতাংশ উপাদান ব্যবহার করে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটি অ্যালুমিনিয়াম ছাতা তৈরি করা সম্ভব। এটি সূর্যের অতিরিক্ত তাপকে আটকে রাখতে সাহায্য করবে।
বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল থেকে শক্তি উৎপাদনের প্রস্তাবও দিয়েছেন হ্যারি। তিনি জানান, বৃহস্পতির ৬,৫০০ কিলোমিটার গভীরে ফিউশন রিঅ্যাক্টর স্থাপন করে বিপুল শক্তি উৎপন্ন করা যাবে, যা পৃথিবীতে পাঠানো হবে।
হ্যারি আরও উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ টেকটোনিক কার্যকলাপ বজায় রাখতে প্রতিদিন ২ কেজি অ্যান্টিম্যাটার ব্যবহার করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর কেন্দ্র উত্তপ্ত থাকবে এবং টেকটোনিক প্লেটের গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে।
এই বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে, পৃথিবী অন্তত ৯০ লাখ বিলিয়ন বছর ধরে কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে প্রাণের জন্য একটি নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে টিকে থাকতে সক্ষম হবে।