August 13, 2026, 6:27 am

সালথায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মিনাজদিয়া এলাকায় সরকারি রাস্তা দখল করে আধা-পাকা ঘর ও টিনের বেড়া নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রায় ৬-৭ মাস পার হলেও এখনো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গৌড়দিয়া ‘খ’ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আসলামের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দখল করা জায়গায় স্থাপনা এখনো রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, তহশিলদার মো. আসলামের গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে ধীরগতির কারণেই এখন পর্যন্ত সরকারি রাস্তার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রায় ৬-৭ মাস আগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও দৃশ্যমানভাবে কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ছিদ্দিক শরীফ জানায় মিনাজদিয়া এলাকায় ইউনুছ শেখ ও তাঁর ছেলে সাইফুল শেখ সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে ভোগদখল করে আসছেন। পরবর্তীতে ওই জায়গায় আধা-পাকা ঘর ও টিনের বেড়া নির্মাণ করে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে, সালিশে সরকারি আমিনের মাধ্যমে জায়গা পরিমাপ করে প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও দখলকারীরা তা মেনে নেননি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি রাস্তার জায়গায় স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়ায় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছেন এবং অবৈধ দখলের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।
তহশিলদার আসলাম বলেন, অবৈধ দখলকারী মো. ইউনুস শেখ তাঁর কাছে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুই মাসের সময় চেয়েছেন। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা হিসেবে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নিলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি রাস্তা দখলের বিষয়টি যদি সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পেয়েই থাকেন, তাহলে দীর্ঘ ৬-৭ মাস ধরে কেন কার্যকর উচ্ছেদ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি?

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাস্তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তাই দ্রুত সরকারি জমি ও রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

তাঁরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা