June 3, 2026, 5:46 pm

বিমানবন্দরে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার গুরুতর অভিযোগ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ নামের এক হজযাত্রীর ছেলে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ করেন। সঙ্গে লাগেজ কাটার একটি ছবিও জুড়ে দেন তিনি। তার দাবি, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ৪১৯ হাজি আসেন। পরবর্তী সময়ে প্রায় দেড়শো হাজির লাগেজ কাটা পাওয়া যায়।” ওইসব লাগেজ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্রও খোয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এই কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেন।

পাঠকদের জন্য ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

“প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান,

“আপনি কি জানেন যে আজ রাত ৩টার সময় পবিত্র হজ শেষে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফিরেছে তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনের লাগেজ কেটে মালামাল বের করে নিয়েছে ঢাকা বিমান বন্দরের ইমানদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা? এই ১৫০ জন হতভাগ্য হাজির মধ্যে আমার আব্বাও ছিল একজন।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট চালুর দিনে আপনি হজ-গামী যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন সামান্য অব্যবস্থাপনার জন্য। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আগামী বছর থেকে হজের প্রথম ফ্লাইট থেকেই কোন অব্যবস্থাপনা থাকবে না। জুন মাসের ১ তারিখ থেকে হজ শেষে হাজি সাহেবরা দেশে ফেরা শুরু করেছে। কুরবানির ঈদ ৫ দিন পূর্বে শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কর্মরত চোরদের নতুন করে ঈদ শুরু হয়েছে। এই ঈদ রোজার ঈদ না কিংবা কুরবানির ঈদও না। এই ঈদ হলও চুরির ঈদ; হাজিদের লাগেজ কাটার ঈদ। পবিত্র হজ শেষ হাজিরা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য সামান্য উপহার হিসাবে যে উপহার-সামগ্রী নিয়ে এসেছে সেই উপহার সামগ্রীগুলো চুরির ঈদ।

“আমার বাবাকে আমি মানা করেছিলাম মূল্যবান কোন-কিছু কেনা-কাটা না করার জন্য। এই জন্য হয়তো বেঁচে গেছে। আমার বাবার লাগেজ থেকে খুব অল্প-দামী কিছু জিনিস চুরি হয়েছে। আমার আব্বা তার ছোট নাতনির জন্য স্বর্ণের জিনিস ক্রয় করতে চেয়েছিল; আমি মানা করেছিলাম তাই হয়তো আমার পরিবার বড় ধরনের অর্থিক ক্ষতির হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। আমি ভাবতেছি সেই সকল হতভাগ্য দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানী যার তাদের নাতি-নাতনির জন্য মূল্যবান জিনিস ক্রয় করে এনেছে ও যাদের লাগেজ কেটে ওই সকল জিনিস চুরি হয়ে গেছে সেই হাজি সাহেব ও সাহেবানদের মানসিক অবস্থা কেমন হয়েছে— যখন দেখতে পেয়েছে তাদের লাগেজ কেটে প্রিয়জনদের জন্য আনা ওই সকল উপহার সামগ্রী চুরি করে নিয়েছে বিমান বন্দরে কর্মরত চোরেরা?

“মানীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ, যে হাজি সাহেবরা আজকে থেকে ফিরবে তাদের লাগেজ গুলো রক্ষার ব্যবস্থা করুন।”

নিচে তিনি নিজের নাম উল্লেখ করে লেখেন, “মোস্তফা কামাল পলাশ, লাগেজ কেটে উপহার-সামগ্রী চুরি যাওয়া একজন হাজির সন্তান।”

এই বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম ৪-৫ জন হাজি এরকম অভিযোগ করছিলেন। আমাদের লোকজন তাদের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে অভিযোগ দিতে বলেন, তারা সেই অভিযোগ দেয়নি।”

ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে জানিয়ে বলেন, “তিনি অভিযোগ করে রেজাল্ট না পেলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারতেন।”

বোসরা ইসলাম আরও বলেন, “এরপরও আমাদের সিকিউরিটি বিভাগ সব চেক করছেন। পাশাপাশি এভসেকও করছেন।” বিষয়টি গভীরভাবে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা