February 17, 2026, 10:47 pm

দ্রুত গতিতে সাবমেরিন নির্মাণ করছে চীন, দুশ্চিন্তায় কেন যুক্তরাষ্ট্র !

গত পাঁচ বছরে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে চীন। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে গেছে দেশটি। এতে দীর্ঘদিনের মার্কিন নৌ-আধিপত্যের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীন ১০টি পারমাণবিক সাবমেরিন সমুদ্রে নামিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নামিয়েছে ৭টি। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে আইআইএসএস। উল্লেখ্য, বেইজিং তাদের নৌবহরের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করে না।

তথ্য মতে, এটি ২০১৬-২০২০ সময়কালের তুলনায় বড় পরিবর্তন। ওই সময় চীন মাত্র ৩টি সাবমেরিন যুক্ত করেছিল। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত করেছিল ৭টি।
তবে পানিতে নামানো মানেই সক্রিয় বহরে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নয়। ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত চীনের সক্রিয় পারমাণবিক সাবমেরিন রয়েছে ১২টি। এর মধ্যে ৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইলবাহী এবং ৬টি গাইডেড-মিসাইল বা আক্রমণাত্মক সাবমেরিন। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সাবমেরিন রয়েছে ৬৫টি, যার মধ্যে ১৪টি ব্যালিস্টিক-মিসাইল সাবমেরিন।

চীনের কাছে আরও ৪৬টি প্রচলিত জ্বালানিচালিত সাবমেরিন রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো সাবমেরিন নেই।
পারমাণবিক সাবমেরিন বহর বাড়াতে উত্তর চীনের হুলুদাওতে অবস্থিত বোহাই শিপবিল্ডিং হেভি ইন্ডাস্ট্রি কোং এর শিপইয়ার্ড ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এখানেই চীনের নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন নির্মাণ হচ্ছে।
বিশেষ করে দুটি টাইপ ০৯৪ ব্যালিস্টিক-মিসাইল সাবমেরিন সমুদ্রে নামানো হয়েছে। এগুলো পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম এবং চীনের স্থলভিত্তিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমানের পাশাপাশি ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’কে শক্তিশালী করছে।

অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর দুটি সাবমেরিন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে আছে। ২০২২ সাল থেকে গড়ে বছরে ১.১ থেকে ১.২টি সাবমেরিন সরবরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়া নতুন কলাম্বিয়া-ক্লাস সাবমেরিন নির্মাণ কর্মসূচিও অন্তত এক বছর পিছিয়ে রয়েছে। প্রথম ইউএসএস ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ২০২৮ সালের আগে নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ২০৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক সাবমেরিনের সংখ্যা নেমে ৪৭-এ দাঁড়াতে পারে। যা হবে ‘সবচেয়ে নিম্ন স্তর’। ২০৩২ সালের আগে সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আইআইএসএস বলছে, সংখ্যায় এগোলেও চীনের সাবমেরিনের প্রযুক্তিগত মান এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তুলনায় পিছিয়ে। বিশেষ করে শব্দ কম রাখার সক্ষমতায় (স্টেলথ) মার্কিন নৌবাহিনী এগিয়ে রয়েছে।
তবু সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নৌযুদ্ধে প্রায়ই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহিনীই সুবিধা পায়। চীন ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট ও অন্যান্য সারফেস কমব্যাট্যান্ট বহরের অধিকারী।
সব মিলিয়ে, চীনের দ্রুত সাবমেরিন নির্মাণ ও যুক্তরাষ্ট্রের ধীরগতির উৎপাদন ভবিষ্যতে সমুদ্রপথে কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা