-
- আন্তর্জাতিক
- কোরান স্পর্শ করে শপথ নিলেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
- আপডেটের সময় : জানুয়ারি, ১, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
- 117 বার দেখা হয়েছে
হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল ও ব্যয়বহুল নগরী নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি।
নতুন বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর, নিউ ইয়র্কের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে সংক্ষিপ্ত ও অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার অভিষেক সম্পন্ন হয়।
উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে আসা ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হিসেবে নতুন এক ইতিহাস গড়লেন।
ফক্স নিউজের খবরে জানানো হয়, বুধবার মামদানির প্রচারণা শিবির নিশ্চিত করেছিল—মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় তিনি কোরান শরিফ স্পর্শ করবেন। এ ঘটনাকেও ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শপথ গ্রহণের পর স্বঘোষিত ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।
ব্যক্তিগত পরিসরে অনুষ্ঠিত ওই শপথ অনুষ্ঠানে তার সিরীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী রামা দুয়াজি তার পাশে উপস্থিত ছিলেন।
নিউ ইয়র্ক রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেইমস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। লেটিশাকে আগে থেকেই ‘রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন তিনি।
শপথ অনুষ্ঠানটি হয়েছে ম্যানহ্যাটনের সিটি হল পার্কের নিচে ভূগর্ভস্থ পুরনো, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে। ১৯৪৫ সালে এই ভুগর্ভস্থ স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এটি এখন একটি পর্যটন স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই আয়োজনের একটি প্রতীকি তাৎপর্য রয়েছে। মামদানির ট্রানজিশন টিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সাবওয়ে স্টেশনটি নিউ ইয়র্ক নগরীকে প্রতিদিন সচল রাখা কর্মজীবী মানুষদের প্রতি তার ‘প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন’ ঘটিয়েছে।
নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানি (৩৪) বৃহস্পতিবার থেকেই দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার অভিষেক ঘিরে নিউ ইয়র্কের বাসিন্দাদের মধ্যে আশা ও উদ্বেগের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
নিউ ইয়র্কের আইন অনুযায়ী মেয়রের চার বছরব্যাপী মেয়াদ নির্বাচনের পরবর্তী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। এ দিন কে নগরীর দায়িত্বে আছেন তা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটাতে মধ্যরাতে শপথ নেওয়া এখানে একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক রাজ্যের সাবেক আইনপ্রণেতা মামদানি বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধ রাখার পাশাপাশি সবার জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা ও চাইল্ডকেয়ারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার এসব কর্মসূচী যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে নির্বাচনী বৈতরণী পার করার পথ দেখাতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।শপথ পাঠ করান লাটিসা জেমস এবং কোরান হাতে সহধর্মিণী।
এই বিভাগের আরও খবর
- সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের
- ইরান যুদ্ধ চালাতেই হবে: ট্রাম্প
- যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে নিহত ১৭৫ আইএস জঙ্গি
- সিবিএসের প্রতিবেদন হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ১০টি মাইন শনাক্তের দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের
- পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান। ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন। ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি। পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’ পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়। ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়
- ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা করলে ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে ইরান
- আরব দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
- আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশে জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বেড়ে গেছে: শুভেন্দু অধিকারী
- বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের পদত্যাগের পরিকল্পনা নেই: ডেভিড ল্যামি
- ইবোলায় ৯০ জনের মৃত্যু, কঙ্গো-উগান্ডায় জরুরি অবস্থা জারি