এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর, ভয়ভীতিহীন ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দিকে এখন শুধু দেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই নির্বাচনের দিকে। তাই সততা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে আমাদের সকলের। ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অজুহাত দেখালে কেউ তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোটের দিন প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ। ভোটকেন্দ্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছে যাবে। এখন ভয় পাওয়ার সময় নয়, ত্যাগ ও দায়িত্ব পালনের সময়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে ঘরে ফিরতে হবে।কেউ কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তা সাথে সাথে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান কবির আরো বলেন ১২ তারিখের নির্বাচনের মাঠে বিভিন্ন দল ও বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কিন্তু আমরা অংশগ্রহণ করেছি সমগ্র দেশকে জেতাতে।”
তিনি বলেন, “আমরা জেতাতে চাই সমগ্র দেশের মানুষকে, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, ভয়ভীতিহীন, উৎসব মুখর নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলায় নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।
জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে। জেলায় নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি তিনি বলেন, আপনাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বই হবে এই নির্বাচনের মূল শক্তি। তিনি আরো বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং/সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ কেউ ছাড় পাবে না।
নির্বাচনে কারচুপির কোনো আশঙ্কা নেই। শতভাগ স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সকল প্রকার আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলার সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যার কারনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই আমাদের অনুকূলে। জেলার সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা যাতে ভয়-ভীতিহীন ছাড়াই নির্বাচনী গণ সংযোগ করতে পারে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটপ্রয়োগ করতে পারে সেই জন্য জেলার সকল উপজেলার অডিও-টরিয়ামে সকল প্রার্থীদের নিয়ে জেলার সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং জেলার সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলিকে চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এখানে কোনো ছাড় নেই। কারও মধ্যে যদি নেতিবাচক মানসিকতা থাকে, তবে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে যান—নইলে পরিণতি কঠিন হবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন আগামী বাংলাদেশের একটি রূপরেখা—যে বাংলাদেশে আপনি, আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন এই নির্বাচনী মাঠে কেউ যদি তার যোগ্যতা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের ও দক্ষতার ঘাটতির প্রমাণ দেয়, তার কোনো ছাড় নেই। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।আমাদের লক্ষ্য—একটি উৎসবমুখর ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া।
নির্বাচনে সবাই মনিটরিংয়ের আওতায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন,“আমাকেও মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ এর বাইরে নয়। কোনো কেন্দ্রে কোন প্রকার অপীতিকর ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ মোবাইল টিম পৌঁছায় তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং গাফিলতি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন তাদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ফোর্স থাকবে। তবে নাগরিকরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে—সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।