১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করে পেয়েছিল একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র। মানচিত্রে ক্ষছিত ছিলো৩০ লক্ষ মানুষের বুকের তাজা রক্ত এবং আনুমানিক ২ থেকে ৪ লক্ষ মা বোনদের ইজ্জত লুন্ঠিতর ইতিহাস ।
উদিত হলো বাংলার আকাশে একটি নতুন সূর্য, যে সূর্যের আলোয় আলোকিত করে একটি শোষনমুক্ত, বৈষম্যহীন, সুখী সমৃদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা অসাম্প্রদায়িক,ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরীর প্রত্যয়।
১৯৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা।
১৯৮১ সালে, ৩০ শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা,
৯০এ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন।
বাংলাদেশকে তার গণতান্ত্রিক যাত্রা পথে বার বার বাধাগ্রস্তের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
২০২৪ জুলাই- আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকার স্বৈরাচারী মনোভাব, এবং মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্মমভাবে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে যে তার পতন ঘটে।
বাংলার আকাশে আরও একটি সূর্য উদিত হলো নতুন স্বপ্ন নিয়ে, ২০২৬ সালে স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলো।
দেশের মানুষ আশায় বোক বাঁধলো, এবার বুঝি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো এদের আচরণ হবে না। সুখী সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, অসাম্প্রদায়িক একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ হবে।
কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রায় সাত মাস হতে চললো, মানুষ কি দেখতে পেলো, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, কিছু কিছু পুলিশ বাহিনীর অপেশাদারিত্ব আচরন। ,প্রশাসনে লাগামহীন দুর্নীতি।
মোটকথা প্রশাসনের কোন কিছুই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না সরকার। দলবাজি টেন্ডারবাজি।
উনারা মুখে বড় বড় বুলি আওরান, উনাদের দাবী গণতান্ত্রিক একটি দল, বিএনপি। দলমত নির্বিশেষে মানুষের সমধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন।
কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখলাম?
গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর শনিবার বর্তমান সরকারি দলের, যুবদল নেতা কর্মী এবং পুলিশ বাহিনী মিলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কেন্দ্রীয় অফিসে যে বর্বর একটি কান্ড করেছে , তা ইতিহাসে খচিত হয়ে থাকবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের জন্ম ১৯৭২ সালের ৩১শে অক্টোবর, এখানে উল্লেখ্য যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদে যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা রয়েছেন তা অন্য কোন রাজনৈতিক দলে আছে বলে আমার জানা নেই।
পুলিশ প্রশাসনের স্পষ্ট অনুমতি সাপেক্ষে, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত প্রতিনিধি সভার আয়োজন করেছিল। সারা বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলার জাসদের নেতাকর্মী এই প্রতিনিধি সভায় যোগ দিয়েছিলেন ।
সরকারি দলের নেতা কর্মী এবং পুলিশ বাহিনী কি করলো ? তারা নাকি গোপন সূত্রে খবর পেয়েছেন এখানেই আওয়ামী লীগের লোকজন এসে জাসদ অফিসে গোপন বৈঠক করছে?? আমি উনাদের জিজ্ঞেস করতে চাই সমগ্র বাংলাদেশ থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচশ নেতা কর্মী এসে জড়ো হয়েছিলেন জাসদের প্রতিনিধি সভায়। এতো মানুষ নিয়ে কি গোপন বৈঠক হয়?
আরো একটি বিষয় লক্ষণীয়, যুবদলের যে নেতা সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশকে অর্ডার করছিলেন এবং জাসদ কার্যালয়ে উপরে উঠে তছনছ করেছে তার কর্মী বাহিনী, এবং জাসদ কার্যালয়ের জানালা দিয়ে যুবদলের ওই নেতা নিচে থাকা তার নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে যে স্লোগান দিলেন। তা কি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ নয়??
এটাই কি আপনাদের সরকারের গণতন্ত্রের নমুনা ? আপনারা তো শেখ হাসিনার সরকারকেও হার মানিয়েছেন।
এই যে জাসদের সকল নেতা কর্মীকে আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে ধরে নিয়ে গেলেন, একটি আওয়ামী লীগের কোন নেতা কিংবা কর্মী কি পেয়েছেন ? ৩০০ থেকে ৩৫০ জন জাসদের কর্মীকে গ্রেপ্তার করলেন। এর মধ্যে জাসদ ছাত্রলীগ ও জাসদের ২৭ জন নেতা কর্মী কে রেখে বাকি সবাইকে ছেড়ে দিলেন কেনো ? তারমানে আপনারা প্রমাণ করতে পারেননি যে,যাদের ধরে নিয়ে গেলেন তারা কেউই আওয়ামী লীগ করে না । তারা সকলেই ত্যাগী জাসদ নেতা,কর্মী। সেদিন আপনাদের চরিত্রটি এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা এ জাতি অনেকদিন মনে রাখবে, জাসদের নেতা কর্মীদের যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছিল, তখন আপনাদের যুবদলের নেতা কর্মীরা কিল, ঘুষি এবং ইট পাটকেল নিক্কেপ সহ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে ব্যঙ্গাত্মক কথাবার্তা বলেছেন। তা দেখেছে সারা বিশ্ববাসী।
আপনারাকি একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চান ? ভিন্ন মতের কোন দল বা কোন ব্যক্তি আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারবেনা ? এতে করে আপনারা কি ইঙ্গিত দিচ্ছেন? তাহলে আপনাদের পছন্দের দল রেখে বাকি সব দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে ফেলুন। তাহলে আপনাদের সামনে আর কেউ কথা বলবে না। এবং গণতন্ত্রের চর্চা যে আপনারা করছেন তা এদেশের প্রতিটি মানুষ বুঝতে পারবে।
পরিশেষে জাসদের এবং ছাত্রলীগের ২৭ জন নেতা কর্মী কে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
আমিনুল ইসলাম আমিন।
দিরাই, সুনামগঞ্জ।