June 4, 2026, 6:44 pm

যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত ইসরাইল-লেবানন

ইসরাইল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয়েছে। তবে এর জন্য ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র-লেবাননের এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়, যখন বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হন। জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা চালায়। এতে গত এপ্রিল মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি আবারও নাজুক হয়ে পড়ে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যকার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক দুই দেশের সার্বভৌম সরকারই নির্ধারণ করবে।

কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করতে পারবে না। চুক্তির আরেকটি শর্ত হলো, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সব সদস্যকে সরিয়ে নিতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবাননের সেনাবাহিনী যাতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে লক্ষ্যে ‘পাইলট জোন’ গঠনে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে সোমবার আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। লেবাননের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতা অনুসারে ইসরাইল বৈরুতে হামলা চালাবে না এবং বিনিময়ে হিজবুল্লাহও ইসরাইলের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকবে।

দুই দেশ আগামী ২২শে জুন আবারও বৈঠকে বসবে। একটি পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ। ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, লেবাননের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন হবে বলে তিনি আশা করছেন। এদিকে চলতি সপ্তাহে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষের হামলার মধ্য দিয়ে আংশিক যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরাইলি সেনাদের একটি সমাবেশস্থলে হামলা চালিয়েছে। হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি দাবি করেন, কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি, কেবল দাহিয়েহকে রক্ষা করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত লেবানন-ইসরাইল আলোচনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে হিজবুল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এসব সিদ্ধান্ত মেনে নিবে না। গত ২রা মার্চ ইসরাইল-ইরান সংঘাতের জেরে লেবানন সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে চালানো এক ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর লেবাননজুড়ে বিমান হামলা এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৫১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। ইসরাইলের দাবি, এ সংঘাতে তাদের ২৬ সেনা ও ৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা