লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলা বাজার এলাকায় মানসিক প্রতিবন্ধী দুই ভাই ও এক বোনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৯ মে ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুর (পাগলা বাজার) এলাকার বাসিন্দা মোছা. কালে বেগম (৫৫), স্বামী মৃত হযরত আলী, মেয়ের মৃত্যুর পর থেকে তার মানসিক প্রতিবন্ধী দুই নাতি ও এক নাতনিকে নিয়ে নিজস্ব বসতভিটায় বসবাস করে আসছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নাতি মো. মফিজুল ইসলাম (২২) ঘরে বসে খাবার খাওয়ার সময় কালে বেগমের ভাইয়ের স্ত্রী মোছা. মোর্শেদা বেগম (৪৫), তার মেয়ে মোছা. মারিয়া বেগম (২৪) এবং মেয়ের স্বামী মো. সাইদুল ইসলাম (২৮) লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা প্রথমেই মফিজুল ইসলামের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। আঘাতে তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
মফিজুলের চিৎকার শুনে তার বড় ভাই ও ছোট বোন এগিয়ে এলে তাদেরও বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাদের আত্মচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় যুবক রুবেল (২০)। এ সময় তিনিও আহত হন বলে জানা গেছে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মফিজুল ইসলামকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় চারটি সেলাই দেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে মোছা: কালে বেগম বলেন, তার নিজস্ব বসতভিটার জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ও তার নাতি-নাতনিদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মানসিক প্রতিবন্ধী নাতি-নাতনিদের কারণে জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে না পেরে তাদের ওপর এমন হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সোহরার কাছে বিচার দাবি করেন। তবে নির্ধারিত দিনে প্যানেল চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় বিচার কার্যক্রম এগোয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় তারা হতাশ। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে আহত ও অসহায় মানসিক প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের চিকিৎসা এবং আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন