June 1, 2026, 4:50 pm

ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ফের সচল করছে ইরান, স্যাটেলাইট চিত্রে মিললো প্রমাণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার দ্রুত পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের পর্যালোচনা করা সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান সাধারণ নির্মাণযন্ত্র-যেমন বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ পুনরায় সচল করার চেষ্টা করছে। এর ফলে দেশটি আবারও দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথ ধ্বংস করা হয় এবং অনেক সুড়ঙ্গের মুখ ধসে পড়ে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে প্রবেশ সীমিত করা এবং তাদের সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত করা।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের কার্যকারিতা সীমিত। কারণ, ইরান দ্রুত অবকাঠামো মেরামত করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ারের মতে, সংঘাত আবার শুরু হলে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ তাদের কাছে উৎক্ষেপণযন্ত্র (লঞ্চার) ও পরিচালনাকারী দল রয়েছে, ততক্ষণ তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারবে, এমনকি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ থাকলেও। ইরানের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, যা ব্যবহারে বড় কোনো বাধা নেই।’

স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে কেবল বাঙ্কার বা সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ ধ্বংস করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি অকার্যকর করা সম্ভব নয়।

ইরান শুধু সুড়ঙ্গের প্রবেশপথই নয়, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশও দ্রুত মেরামত করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান চলাচল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সড়কগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছিল, সেগুলোও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, হামলায় সৃষ্ট প্রায় সব গর্তই ভরাট করা হয়েছে এবং অন্তত দুটি স্থানে নতুন করে পিচঢালাইও করা হয়েছে।

গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কৌশলগত পর্যায়ে সফল হামলা চালাতে অত্যন্ত দক্ষ, আর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে সাময়িকভাবে দমন ও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে ফেলতে পারা তারই একটি উদাহরণ। তবে যদি এর সঙ্গে বাস্তবসম্মত যুদ্ধকৌশল এবং অর্জনযোগ্য চূড়ান্ত লক্ষ্য না থাকে, তাহলে এসব সাফল্য শেষ পর্যন্ত কৌশলগত ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।’

অন্যদিকে, সিএনএনের অনুসন্ধান নিয়ে করা নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দেননি পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল। তিনি আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। প্রেসিডেন্ট যখন, যেখানে এবং যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সেই অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে।’

সূত্র: সিএনএন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা