April 27, 2026, 11:52 am

সরকারের অব্যবস্থাপনার প্রশ্ন কেন আসছে?

BBC Bangla

শুরুতেই সরকারের অব্যবস্থাপনা প্রকাশ পেয়েছে জ্বালানি তেল বিতরণে রেশনিং চালু করার কারণে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ফেব্রুয়ারির শেষে এবং মার্চের শুরুতে অকটেন, পেট্রোল বা ডিজেল ঘিরে যখন মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ শুরু হয়, সে সময় সরকার পাম্পগুলোয় তেল বিক্রিতে রেশনিং চালু করে।

রেশনিংয়ের এই পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে তেল নিয়ে আতঙ্ক এবং প্যানিক বায়িং আরও বাড়িয়ে দেয়। ঢাকাসহ সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোয় তেলের জন্য যানবাহন নিয়ে মানুষের অপেক্ষার লাইন বড় হতে থাকে।

তখন চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের অসন্তোষের মুখে রেশনিং ব্যবস্থা থেকে সরে আসে সরকার।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদার একটা বড় অংশ দেশেই উৎপাদন হয়। এরপরও আন্তর্জাতিক খোলা বাজারসহ বিকল্প বিভিন্ন উপায় থেকে উচ্চ দামে তেল সংগ্রহ করেছে সরকার। ডিজেলও আমদানি করা হয় ভারতসহ বিকল্প জায়গা থেকে।

সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে, অকটেন, পেট্রোল এবং ডিজেল এতটাই মজুত আছে যে, এখন বাড়তি তেল রাখার আর জায়গা নেই।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আগামী দুই মাসেরও বেশি সময়ের তেল মজুত আছে। এর পরের সময়ের জন্যও তেল আমদানির ব্যবস্থা সরকার রেখেছে।

সরকার এসব পদক্ষেপের কথা বলার পরও তেলের পাম্পগুলোয় মানুষের অপেক্ষার লাইন কমছে না।

আর সেখানেই প্রশ্ন উঠছে, মানুষ কেন আশ্বস্ত হতে পারছে না; ‘প্যানিক বায়িং’ থামানো যাচ্ছে না কেন?

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, পেট্রোল পাম্পগুলোয় মানুষের অপেক্ষার মুখে কখনও রেশনিং চালু করা, কখনও সরবরাহ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেওয়া-সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের ক্ষেত্রে এক ধরনের অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে।

এছাড়া এক শ্রেণির অসাধু বা কালোবাজারি চক্রও পেট্রোল পাম্প থেকে বার বার তেল নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও বলেছেন, একটা অসাধু চক্র বিভিন্ন পাম্প থেকে ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করে তা কালোবাজারে বিক্রি করেছে।

এমন চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার লিটার তেল উদ্ধারের কথাও বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

কিন্তু পাম্পগুলোতে এ ধরনের চক্রকে ধরতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। তেল বিক্রিতে নজরদারিটা সেভাবে করতে পারেনি সরকার।

সাংবাদিক অরুন কর্মকার জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করেন। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, কিছু অব্যবস্থাপনা, মানুষের প্যানিক বায়িং এবং কালোবাজারি চক্রের তৎপরতা-মোটদাগে এই তিনটি কারণে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিল হয়েছে।

মানুষের তেল সংগ্রহ করতে যখন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তখন অকটেন, পেট্রোল, কেরোসিন এবং ডিজেল-সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

এ নিয়েও সমালোচনা চলছে। কারণ এর প্রভাবে গণপরিবহনে যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের বিস্তৃতি ঘটছে বিভিন্নখাতে। বিদ্যুতের সংকটও এখন বাড়ছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা