April 25, 2026, 10:14 am

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সারা দেশের মেইল ও কমিউটার ট্রেন বন্ধ হতে পারে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মজুত তলানিতে নামায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সারা দেশের মেইল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লোকসান কমাতে ট্রেনের ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, সারা দেশে ট্রেন চালাতে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। সাধারণত রেলের বিভিন্ন ডিপোতে এক মাসের জ্বালানি মজুত থাকলেও বর্তমানে তা ৭ থেকে ১০ দিনে নেমে এসেছে।

জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতি সপ্তাহে রেলকে ১২ লাখ লিটার তেল দেয়। তবে সাম্প্রতিক সংকটে প্রতি কিস্তিতে সরবরাহের পরিমাণ ১০ শতাংশ করে কমছে। গত দুই সপ্তাহে সরবরাহ কমেছে ২০ শতাংশের বেশি।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, তেলের সরবরাহ যদি এই অবস্থায় থাকে, তবে সর্বোচ্চ ১৫ দিন ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। শুরুতে বন্ধ হবে কম গুরুত্বপূর্ণ ছোট রুটের ট্রেনগুলো।

যে রুটের ট্রেনগুলো বন্ধ হতে পারে
রেলওয়ের তথ্যমতে, পশ্চিমাঞ্চল রুটে ২৯টি আন্তনগর, ১৮টি কমিউটার ও ১৫টি মেইল ট্রেন চলাচল করে। এগুলোর মধ্যে বাগেরহাটের মোংলা থেকে যশোরের বেনাপোল পর্যন্ত চলাচল করা মোংলা কমিউটার, সান্তাহার-লালমনিরহাট রুটের বগুড়া কমিউটার, খুলনা থেকে পার্বতীপুর রুটের রকেট মেইল, লালমনিরহাট-বিরল রুটের দিনাজপুর কমিউটার, লালমনিরহাট থেকে পার্বতীপুর রুটের লালমনি কমিউটার ট্রেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রাজবাড়ী মেইল, ভাটিয়াপাড়া মেইল, চন্দনা কমিউটার, পুনর্ভবা কমিউটার, মল্লিকা কমিউটার, পঞ্চগড় কমিউটার ট্রেন যাত্রীসংকটের কারণে আগেই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পূর্বাঞ্চল রুটে ২৯টি আন্তনগর ট্রেন ও ২৫টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে। এই মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলো প্রায়ই লোকোমোটিভ, রেক, কোচসংকটে যাত্রা বাতিল করে। ঢাকা-সিলেট রুটের সুরমা মেইল সপ্তাহে মাত্র এক দিন যাতায়াত করে। তুরাগও (তিন জোড়া) নারায়ণগঞ্জ কমিউটার (চার জোড়া) ট্রেনগুলো এখন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের ঈশা খাঁ এক্সপ্রেসও বন্ধ হয়ে গেছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানিসংকটে স্বল্প দূরত্বে চলাচল করা এসব ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হচ্ছে। রেলওয়ের অপারেশনস বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, রেল কর্তৃপক্ষ মেইল ট্রেনগুলো বন্ধ করে জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা অনেক দিন আগেই পরিকল্পনা করেছিল। যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে মেইল ট্রেনগুলো বন্ধ করা হয়নি।

মেইল ট্রেন বন্ধ করলে আন্তনগর ট্রেনে বাড়তি চাপ পড়বে। তখন ওই ট্রেনগুলোতে বাড়তি কোচ সংযুক্ত করা হবে না বলেই সিদ্ধান্ত হয় রেলের সভায়। রেল কর্মকর্তারা বলছেন, তখন যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে।

বকেয়ার পাহাড় ও বাড়তি ভাড়ার প্রস্তাব
জ্বালানির দাম বাড়ায় রেলের আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। আগে যেখানে বিপিসির কাছে তেলের বিল বাবদ বছরে বকেয়া গড়ে ১০০ কোটি টাকা থাকত, তা এখন বেড়ে ৩০০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

ব্যয় সামলাতে ভাড়া বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক বলেন, ‘ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ায় রেলের দৈনিক খরচ বেড়েছে ১৫ লাখ টাকা। বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় সাড় ৫৪ কোটি টাকা। এই লোকসান বহন করা অসম্ভব। তাই ট্রেনের ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়ানো উচিত।’ একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বাসের তুলনায় ট্রেনের ভাড়া প্রায় অর্ধেক। বর্তমানে ৪১৮ টাকার ভাড়া অন্তত ৬০০ টাকা হওয়া দরকার।’

রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রেন সচল রাখতে হলে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আগামী বাজেটে বড় ধরনের বরাদ্দ প্রয়োজন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা