নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নয়ন (৩০) হত্যা মামলার চার বছর পর মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামি মোঃ কামাল হোসেন (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (ডিএন) সড়ক থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার সাজালের কান্দি এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত নয়ন মিয়া ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সোনারগাঁওয়ের মারুবদী এলাকা থেকে নিজ বাসা বন্দরের কেওঢালা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। পরদিন ১ জানুয়ারি সকালে সাজালের কান্দি এলাকায় রাস্তার পাশে একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ আলম বেপারী বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ সালের সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদপ্রার্থীকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত নয়ন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থক হওয়ায় প্রতিপক্ষের ক্ষোভের শিকার হন।
পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে নয়নকে অতর্কিত হামলা করে ১৪-১৫ জনের একটি দল। তারা তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করে। হত্যার পর মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশের ডোবায় ফেলে রেখে যায় তারা।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আঃ বাতেন মিয়ার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি হয় এবং মূল আসামিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ৮ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক,