মোহাম্মদ আসাদ:
জামালপুরের বকশীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় বিদেশি মদ ও একটি মোটরসাইকেলসহ কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয়সহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১)।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে বকশীগঞ্জ থানার বৈষ্ণবপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ২১৭ বোতল (প্রায় ১১৪ লিটার) ভারতীয় মদ এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন বৈষ্ণবপাড়া গ্রামের মো. সুজাত মিয়া (৩৭), মো. সিফাত (২০), জয়দেবপুরের মো. রুবেল মিয়া (২৭) ও জানকীপুর মির্ধাপাড়ার মো. ফুরকান হোসেন (১৯)।
জব্দ করা মদের মধ্যে রয়েছে ৬০ বোতল আইস ভদকা (৩৭৫ মিলি), ৭৫ বোতল আইস ভদকা (৭৫০ মিলি), ২৪ বোতল রয়েল স্ট্যাগ (৩৭৫ মিলি), ১২ বোতল এসি ব্ল্যাক (৩৭৫ মিলি), ১২ বোতল ম্যাকডওয়েল’স (৭৫০ মিলি) এবং ৩৪ বোতল আইকনিক হোয়াইট (৩৭৫ মিলি)। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি-১-এর এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল বকশীগঞ্জের বৈষ্ণবপাড়ায় সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাপথে এসব ভারতীয় মদ এনে জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(বি)(১)(বি)/২৫(ডি) ধারায় বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জামালপুর জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে তিনি মাদক-সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।

