লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় বিচারপ্রত্যাশী আমেনা খাতুন শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার না পেয়েই মৃত: বরণ করেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী এলাকায় আমেনা খাতুনের উপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে আফজাল হোসেন, পিতা: মো: মুসা মিয়া, মুসা মিয়াসহ অন্যদের নাম রয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, পারিবারিক ও যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিদের সঙ্গে বাদীপক্ষের বিরোধ চলছিল। এজাহারে যৌতুকের টাকা দাবি, চাপ প্রয়োগ এবং পরবর্তীতে আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ০২/০৩/২০১৯ তারিখ রাতে আসামিরা বাড়িতে যাওয়ার পর বাদিনীর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আসামিরা আমেনা খাতুনের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে এসিড নিক্ষেপের পর তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া, পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারের বর্ণনায় আরও বলা হয়, ঘটনার পর স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আদিতমারী থানায় মামলা করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, মামলা হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। বিচার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির সংবাদপত্রের কাটিংও স্বজনদের কাছে রয়েছে।
পরিবারের দাবি, এসিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই আমেনা খাতুন নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর আক্রান্ত স্থানে ক্যান্সার দেখা দেয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মৃত্যুসনদে যা আছে
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট অব কজ অব ডেথ-এ আমেনা খাতুনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে “Acute Multi Organ Failure” উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে Anemia, Heart Failure, Septicemia এবং genitourinary tract-এ আঘাতজনিত জটিলতা-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমেনা খাতুনের মরদেহ তাঁর নানির বাড়ি লালমনিরহাট শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালুক খুটামারা এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, একজন নারী এসিড হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিচার পাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এখন অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।