ভোটে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এবার তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। দলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা থাকা তিনটি বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডেবিট অপারেশন সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিধাননগরের এক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট এখন ‘ডেবিট ফ্রিজে’ রয়েছে। অর্থাৎ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করা যাবে, কিন্তু কোনো টাকা তোলা বা স্থানান্তর করা যাবে না।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দলেরই কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়কের অভিযোগ। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের অর্থ ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়। একদিকে বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারী ১০ জন বিধায়ক বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তারা ওই বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এই টাকা কাটমানি, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার কিংবা অন্য কোনো অবৈধ পথে এসেছে কি না। এক বিধায়ক লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদুপায়ে অর্জিত টাকা ঘুরপথে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা হয়েছে বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে।
অরূপ বিশ্বাস কয়েকদিন আগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলের ৫০০ কোটি টাকার বেশি আমানত সুরক্ষিত রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ সংকট মিটে না যাওয়া পর্যন্ত সব লেনদেন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের অভিযোগের কারণে বিষয়টি এখন পুলিশি তদন্তের আওতায় চলে এসেছে।
এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত এক প্রবীণ বিধায়ক জানিয়েছেন, তারা পুলিশের এই পদক্ষেপের কথা শুনেছেন, তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাননি।
কুনাল ঘোষ অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, অরূপ বিশ্বাস আর দলের কোষাধ্যক্ষ নেই। গত ৫ জুন কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে শুভাশিষ চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। তাই আর্থিক বিষয়ে অরূপ বিশ্বাসের কোনো এখতিয়ার নেই।
তিনটি অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি ডেবিট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের দৈনন্দিন খরচ চালানো এবং সাংগঠনিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন পুলিশি তদন্ত ও আইনি জটিলতায় রূপ নিয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে