April 22, 2026, 9:10 am

সহযোগীদের খবর ‘নতুন মোড় নিচ্ছে যুদ্ধ’

কালের কণ্ঠ

‘নতুন মোড় নিচ্ছে যুদ্ধ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ নতুন মোড় নিয়েছে। গতকাল শুক্রবার চলমান যুদ্ধের সপ্তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো বি-২ স্টিলথ বোম্বার ব্যবহার করে ইরানে হাজার পাউন্ডের ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ইসরায়েলে নজিরবিহীন ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। এ ছাড়া যুদ্ধ এখন ‘নতুন ধাপে’ প্রবেশ করেছে বলে গতকাল ইসরায়েল দাবি করেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থল অভিযান থেকে সরে এসেছেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেকেশকিয়ান জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশ যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

ইসরায়েলে ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা ইরানের: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে একটি ভয়াবহ ক্লাস্টার মিসাইল দেশটির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। গত বছরের জুনে দুই দেশের মধ্যে যে সংঘাত বেধেছিল, সে সময়েও ইসরায়েলের দিকে ‘ক্লাস্টার বোমা’ ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল ইরানের বিরুদ্ধে।

প্রথমবারের মতো বি-২ বিমান ব্যবহার:ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার এবং নৌবাহিনীর ওপর হামলা আরো জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে লুকানো ব্যালিস্টিক মিসাইলের মজুদ রাখা লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালাতে গতকাল প্রথমবারের মতো বি-২ স্টিলথ বোম্বার ব্যবহার করেছে। লক্ষ্যবস্তুতে দুই হাজার পাউন্ডের কয়েক ডজন বাংকার বাস্টার বোমা ফেলা হয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৯০০ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

যুদ্ধ নতুন ধাপে:ইসরায়েল গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে চলমান যুদ্ধ ‘নতুন ধাপে’ প্রবেশ করেছে। দেশটি বলছে, এখন থেকে ইরানের শাসনব্যবস্থার মূল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আরো বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে।

স্থল অভিযান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত ট্রাম্পের: ইরানে স্থল অভিযান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের স্থল অভিযান চালানোকে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে ইরানের আশঙ্কার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সময়ের অপচয়।

তারা এরই মধ্যে সব হারিয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে; যা কিছু হারানো সম্ভব, তার সবই তারা হারিয়েছে।’ তবে গতকাল নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, শুধু নিঃশর্ত আত্মসমর্পণই গ্রহণযোগ্য।’

কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে:এক সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধের অবসানে কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ কথা জানান।

হামলা-পাল্টাহামলা চলছেই:তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে গতকাল সকালে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যুদ্ধ সপ্তম দিনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের আবাসিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায়ও প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বিমানগুলো গতকাল বেকা উপত্যকার দৌরিসসহ দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের শহরগুলোতে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতেও হামলা চালায় তারা।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: জ্বালানির পর এবার সারেও বিপাকে পড়ছে বাংলাদেশ’। খবরে বলা হয়, দেশে ব্যবহৃত মোট সারের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার প্রধান উৎস সৌদি আরব, মরক্কো, চীন, রাশিয়া ও কানাডা। এর মধ্যেই গ্যাস সংকট মোকাবেলায় দেশের পাঁচটি সার কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনিতেই দেশীয় উৎপাদনে মোট চাহিদার সামান্য অংশ পূরণ হয়। তার ওপর কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় আমদানির ওপর নির্ভরতা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে সারের প্রধান কাঁচামাল গ্যাসের সরবরাহ সংকট, মূল্য ওঠানামা, জাহাজ সংকট, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি এবং প্রিমিয়াম চার্জ বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক সারের বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশকে সার আমদানিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। এতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

দেশে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন সারের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এসব সারের আমদানি ও ব্যবস্থাপনা করে থাকে। মূলত বিসিআইসির সার কারখানাগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) ইউরিয়া সারের বড় জোগানদাতা। এসব কারখানাগুলো মূলত গ্যাস সরবরাহ নিয়ে ইউরিয়া উৎপাদন করে। এর পাশাপাশি চীন ও মরক্কো বাংলাদেশের বড় সার সরবরাহকারী। মূলত ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি এবং ইউরিয়ার বড় উৎস দেশ দুটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও প্রভাব ফেলছে। যেহেতু ইউরিয়া সার উৎপাদনের প্রধান উপাদান প্রাকৃতিক গ্যাস, তাই গ্যাসের দাম বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামও বেড়ে যায়। ফলে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশকে বেশি দামে সার কিনতে হতে পারে।

বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া, টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট), ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও পটাশ সার (এমওপি বা মিউরেট অব পটাশ) আমদানি করে। এ আমদানির প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, মরক্কো, চীন, কানাডা ও রাশিয়া। এর মধ্যে ডিএপির ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটি বাংলাদেশের মোট ডিএপি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে। অন্যদিকে ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি এবং ইউরিয়ার বড় উৎস মরক্কো ও চীন। বিশেষ করে মরক্কোর ওসিপি গ্রুপ বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ টিএসপি ও ডিএপি সরবরাহ করে থাকে। মিউরেট অব পটাশ বা এমওপি সরবরাহে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কানাডাও পটাশসহ অন্যান্য সার সরবরাহকারী দেশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে পরিমাণ সার আমদানি করার কথা তার পুরোটাই দেশে এসেছে। ফলে চলমান বোরো মৌসুম সামাল দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সারের মজুদ রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সারের বাজারে অচলাবস্থা থাকলে দেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি তারা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. খোরশেদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টন সার মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪ লাখ ৮১ হাজার টন ইউরিয়া, ৩ লাখ ৮৩ হাজার টন টিএসপি, ৪ লাখ ৭১ হাজার টন ডিএপি ও ৩ লাখ ৪৯ হাজার টন এমওপি। এ পরিমাণ সার দিয়ে আগামী মে থেকে জুন পর্যন্ত সামাল দেয়া যাবে।’

যুদ্ধপরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল-গ্যাস রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে এলএনজি, ক্রুড অয়েল ও পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নাইট্রোজেনভিত্তিক সার ইউরিয়া এবং এর উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের সরবরাহও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে জ্বালানি তেল ও সার সরবরাহ কার্যক্রমে নিয়োজিত এলএনজিবাহী ট্যাংকারের ভাড়া ৬৫০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সার ও এর কাঁচামাল রফতানির উৎসগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়ার সুযোগ কম। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে তা কৃষি থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যের বাজারে উল্লম্ফন তৈরি করবে। এমনকি খাদ্যনিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সারের দামে বড় আকারে পরিবর্তন হয়েছে, যুদ্ধ না থামলে তা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। চলমান বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই দেশে সারের সংকট রয়েছে। কৃষকরা ঠিকমতো সার পাচ্ছেন না। অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি পণ্যের পাশাপাশি কৃষিতেও বড় নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে। এ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে সার কারখানা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখলে তা কৃষিতে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি তৈরি করবে।’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার উৎপাদনে অ্যামোনিয়া ও নাইট্রোজেন পরিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে বিশ্বব্যাপী সার উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। গালফ অঞ্চলে সার উৎপাদনের বৃহৎ কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সরবরাহ কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাজারে সারের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন তৈরি হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক সার, খনি ও ধাতু প্রতিষ্ঠান সিআরইউ গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সারের বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক মূল্য নির্ধারণ করে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ইউরিয়া সারের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে টনপ্রতি ইউরিয়ার দাম ছিল ৪৮৪ থেকে সর্বোচ্চ ৪৯০ ডলার। বর্তমানে ইউরিয়ার দাম ৬২৫ ডলারে উঠে গেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী (৩ মার্চ) বৈশ্বিক বাজারে সব ধরনের সারের দাম গড়ে ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

ওয়ার্ল্ড ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড সলিউশন (ডব্লিউআইটিএস) বলছে, রাশিয়া, মিসর ও সৌদি আরবের পর ইরান ইউরিয়া সারের চতুর্থ রফতানিকারক দেশ। অন্যদিকে ইউরিয়া উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল গ্যাসের বড় রফতানিকারক দেশ কাতার। কাতারের রাশ লাফান সিটিতে গ্যাসের অবকাঠামোয় ড্রোন হামলার পর বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র অবকাঠামোটি বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন সংস্থার তথ্য দিয়ে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বের সার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। পাশাপাশি সমুদ্রপথে আনা তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশও এ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার ফলে অ্যামোনিয়া ও নাইট্রোজেনের পরিবহন প্রভাবিত হচ্ছে। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান সালফারের উৎপাদনেও প্রভাব পড়বে। আমদানিকারক দেশগুলোতে সারের কাঁচামাল সময়মতো না পৌঁছলে কৃষককে উঁচু দামে সার কেনা, সার ব্যবহার কমানো বা ফসলের ধরন পরিবর্তনের মতো পথে হাঁটতে হতে পারে।

দেশে সরকারিভাবে সার উৎপাদন করে থাকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। সংস্থাটির অধীনে পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানা ও একটি করে ডিএপি ও টিএসপি সার কারখানা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের একটি বহুজাতিক কোম্পানি ইউরিয়া উৎপাদন করে থাকে। গ্যাস সংকটের কারণে বুধবার থেকে সরকারি নির্দেশে বেসরকারি একটিসহ পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা ‘সাময়িক’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চলমান বোরো মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ডব্লিউআইটিএসের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে সৌদি আরব ও কাতার থেকে ৫৫ কোটি ১ লাখ ৯৭ হাজার ডলারের সার আমদানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন এবং আপৎকালীন ও জরুরি পরিস্থিতি এবং দেশীয় কারখানায় সারের ঘাটতি মোকাবেলায় আরো তিন লাখ টনসহ মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি হয় গত অক্টোবরে।

বিসিআইসির একজন অতিরিক্ত প্রধান রসায়নবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের এলএনজি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এরপর তারা সেটি দিয়ে অ্যামোনিয়া উৎপাদন করেন এবং পরবর্তী সময়ে সেটিকে ন্যাচারাল গ্যাসে রূপান্তর করে ইউরিয়া উৎপাদন করেন। তাদের ব্যবহার করা এলএনজির অধিকাংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়। যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক না থাকায় এখন উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সারের চাহিদার অর্ধেকের বেশি প্রয়োজন হয় রবি ও বোরো মৌসুমে। শীতকালীন সবজি ও শীতের শেষে রোপণ করা বোরো ধানের মৌসুমেই ৩৫-৪০ লাখ টন সার ব্যবহার হয়। শীতকালীন সবজি শেষের দিকে। আর সব এলাকায় বোরো ধান রোপণ করা শেষ। ফলে এখনো বোরোতে সারের প্রয়োজন পড়বে। সেজন্য এ মুহূর্তে সারের সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখা জরুরি। এছাড়া পরবর্তী ফসলের মৌসুমের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা জরুরি। প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ কৃষি অর্থনীতিবিদদের।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী স্যার উৎপাদন ব্যাহত ও খাদ্য উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হলেও দেশে অতি দ্রুতই সারের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, দেশে ১৫-২০ দিন পর থেকে বোরো ধানে কোনো সারের প্রয়োজন পড়বে না। উৎপাদন সাময়িক বন্ধ থাকলেও সারের সরবরাহে কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশে সারসহ কৃষি খাতে প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সারা বিশ্বের জ্বালানিতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ মুহূর্তে আমাদের দেশে সারের কোনো সংকট নেই। সেজন্য আশা করি, কারখানা বন্ধ থাকায় কোনো প্রভাব পড়বে না। পরের মৌসুমে যেন কোনো প্রভাব তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।’

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে দেশে এরই মধ্যে জ্বালানি তেল ও গ্যাসে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জ্বালানির ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ বেঁধে দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি ভবন, সংস্থা ও করপোরেশনগুলোতে অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার কমানো থেকে শুরু করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবহার কমাতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানীকৃত এলএনজি এরই মধ্যে গ্রিডে কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রথম আলো

‘নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে। ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলক এই কার্ড দেওয়া হবে। একে একে দেশের সব পরিবারকে এই কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের ব্যাপারে মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কারণ, দেশের মানুষ লম্বা সময় ধরে আর্থিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বড় ধাক্কা এসেছিল করোনা মহামারির সময়। মানুষ কাজ হারায়, দারিদ্র্য বাড়ে। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যেতে দেখা যায়। অন্যদিকে দেশে চলমান প্রায় ১০০ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দরিদ্র সব মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। এসব কর্মসূচিতে দ্বৈততা আছে, কাজের পুনরাবৃত্তি (ওভারল্যাপিং) আছে, সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ আছে। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে ফ্যামিলি কার্ড বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর কথা বলে আসছিল। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতির শুরুতে ফ্যামিলি কার্ডের কথা আছে। এতে বলা হয়েছে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কাজের অংশ হিসেবে পাইলটিং বা দিশারী প্রকল্প শুরু হয়েছে। ১৪টি স্থানে প্রকল্পের কাজ হবে। এলাকাগুলো হচ্ছে রাজধানীর কড়াইল বস্তি, ভাষানটেক বাগানবাড়ি বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।

প্রাথমিকভাবে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুচিত্রা রায় প্রথম আলোকে বলেন, এখানে চার সদস্যের ওয়ার্ড কমিটি ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছে। জরিপের কাজ শেষ। ডেটা এন্ট্রির কাজও প্রায় শেষ। আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ শেষে ১০ মার্চ সুনামগঞ্জে এ কর্মসূচি শুরু করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা আছে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিল্টন মুহুরি প্রথম আলোকে বলেন, এখানে মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ। ১০ মার্চ কার্ড বিতরণের জন্য তাঁরা প্রস্তুত।

বিভিন্ন জেলা ও সমাজসেবা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জরিপ ও তথ্য অন্তর্ভুক্তির (ডেটা এন্ট্রি) কাজ শেষ হয়েছে। ৯ মার্চের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড মুদ্রণ শেষ হবে। ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন। ওই দিনই সুবিধাভোগীদের কাছে মুঠোফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা পৌঁছে যাবে।

উপকারভোগী নির্বাচনে ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পাঁচ স্তরবিশিষ্ট কমিটি কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে উপজেলা কমিটি (শহরে শহর কমিটি), ইউনিয়ন কমিটি, পৌর কমিটি (শহরে), ওয়ার্ড কমিটি। সব কমিটির ওপরে থাকবে মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী এ কমিটির সভাপতি। আর কমিটির সদস্যসচিব সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। এরপর জাতীয় কারিগরি ও তথ্য ব্যবস্থাপনা (ডেটা ম্যানেজমেন্ট) কমিটি। এ কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

কী এই কার্ড, কে পাবেন

এ কর্মসূচির সরকারি নীতিপত্রে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড মূলত একীভূত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। ব্রাজিলে এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্য কমেছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়াতেও এ ধরনের পরিবারকেন্দ্রিক সহায়তা কর্মসূচি আছে, যাতে সফলতাও দেখা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে সচিবালয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মূল দায়িত্বে থাকবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে নারী ও শিশু, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থ, পরিকল্পনাসহ মোট ১৪টি মন্ত্রণালয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরাসরি যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা পাইলটিং শুরু করছি। একপর্যায়ে দেশের সব পরিবার এই কার্ড পাবে। তবে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবার।’

পরিবারে থাকা মা অথবা নারীপ্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করবে সরকার। কার্ডের মালিকের বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। কার্ডে নাগরিকের সব ধরনের তথ্য থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’–এ রূপান্তর করার কথা বলা হচ্ছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘গাড়িতে তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল সরকার’। খবরে বলা হয়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি তেলে বড় ধরনের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে ট্রাক পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহনকে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি তেল দেওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে সরকার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব পেট্রোল পাম্পকে গত বছরের (২০২৫) তেল বিক্রির হিসাব থেকে ২০ শতাংশ কম তেল দেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি। তবে সরকার আপাতত তেলের দাম বাড়াবে না বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি মোটরসাইকেল একদিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন বা পেট্রোল, কার ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, এসইউভি, জিপ মাইক্রোবাস প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পেট্রোল বা অকটেন, পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কনটেইনার লরি ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।

এদিকে জ্বালানি তেলের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় সব পাম্পে গাড়ির দীর্ঘলাইন দেখা গেছে। সবার মধ্যে একটাই আতঙ্ক তেল পাওয়া যাবে তো! তবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন করে ভোক্তাদের অভয় দিয়ে বলেছেন, সবাই অল্প অল্প করে তেল নিন। তাতে করে তেলের কোনো সমস্যা হবে না। সবাই গাড়ির ট্যাঙ্কি ভর্তি করে তেল নিলে তেলের সমস্যা হতে পারে। কারণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আগের মতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। জানা গেছে, তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ভিড়ের কারণে অনেক পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে তেলের জন্য গাড়ির লাইন দেখা গেছে। চাহিদামতো তেল কিনতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা।

গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে বাংলাদেশে তেল নিয়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। গত ২ থেকে ৪ মার্চ পেট্রোল পাম্পগুলো তেল বিতরণে সরকারি কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপোগুলো থেকে দ্বিগুণের বেশি তেল ক্রয় করেছে। একপর্যায়ে ডিজেলের মজুত ৯ দিনের নিচে নেমে গেছে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখন দেশে ডিজেল আছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৪০ টনের মতো। এ অবস্থায় শুক্র ও শনিবার ডিপোগুলো থেকে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার সারা দেশের পাম্পগুলোতেও তেল কিনতে গাড়ির চালকদের অস্বাভাবিক ভিড় সরকারকে চিন্তিত করেছে। এরপর জ্বালানি তেল বিক্রিতে বড় ধরনের রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তেল কেনার সময় অবশ্যই ক্রয় রসিদ পাম্প থেকে সংগ্রহ করতে হবে। কারণ ওই রসিদ দেখিয়ে পরে আবার তেল কিনতে হবে ভোক্তাদের। ডিলাররা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিক্রি করবে। এছাড়া প্রতিটি ডিলার বা পাম্পের ২০২৫ সালের মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের তেল বিক্রির গড় হিসাব করবে বিপিসি। সেই গড় হিসাবের ২০ শতাংশ কম তেল দেওয়া হবে ডিলার বা পাম্পগুলোকে। শুক্রবার বিকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এদিকে বিপিসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেল আমদানি মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অনেক ডিলার বা পাম্প মালিক চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কিছু কিছু ডিলার ও পাম্পে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরকার তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেলের পার্সেল নিয়মিতভাবে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলার বা পাম্পগুলোতে তেল দিতে সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে সরকার শিগগির তেলের বাফার স্টক বা পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তুলবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসের প্রথমে সরকার তেলের দাম নির্ধারণ করেছে। এখন আর নতুন করে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। সরকার এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘সংকটের গুজবে জ্বালানি তেল কিনতে সারাদেশে হুড়োহুড়ি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দেশে তেল সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে পড়েছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। শুক্রবার ছুটির দিনেও সড়কে দেখা দেয় যানজট। কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, আবার কোথাও মজুত শেষ হয়ে সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখা ও মারামারির ঘটনা ঘটছে। সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি সামলাতে যানবাহনে তেল বিক্রির কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান এবং পরিচালক (মার্কেটিং) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে গত বৃহস্পতিবার বদলি করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাজধানীতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় টুকু বলেন, অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তেল নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়াতে আহ্বান এবং বাড়তি তেল মজুত না করতে চালকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

যানভিত্তিক কোটা নির্ধারণ

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বিপিসি। শুক্রবার সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল দেওয়া যাবে।

ফিলিং স্টেশনগুলোকে জ্বালানি বিক্রির সময়, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে নগদ স্মারক দিতে বলেছে বিপিসি। একই সঙ্গে পুনরায় জ্বালানি নেওয়ার সময় আগের ক্রয়ের বিল জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ডিলারদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ এবং ডিপোতে মজুত ও বিক্রির তথ্য নিয়মিত জমা দিতে বলেছে সংস্থাটি।

তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ছুটির দিনেও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পাম্প থেকে মূল রাস্তা পর্যন্ত চলে এসেছে গাড়ির লাইন। ফলে রাস্তায় তৈরি হয়েছে যানজট। গতকাল সন্ধ্যার পর আসাদ গেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েক দফা তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। অপেক্ষায় থাকা উবারের গাড়িচালক মো. হাসান জানান, প্রায় ৩০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে আরও ৩০টির মতো গাড়ি রয়েছে। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল লাগে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় তিনি কয়েকটি ভাড়া হারিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে মতিঝিলের পাশে করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সোহাগ জানান, ডিপো থেকে আগের তুলনায় তেল কম আসছে। আবার গ্রাহকরা বেশি তেল নিচ্ছেন। যারা আগে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার তেল নিতেন, তারা এখন ট্যাঙ্ক ভরে তেল নিচ্ছেন। এ জন্য সংকট দেখা দিয়েছে। পরীবাগের পাম্পে কথা হয় বাইকচালক মইনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, কয়েকটি পাম্প ঘুরে এখানে তেল নিতে এসেছেন।

ইত্তেফাক

‘ইসরাইলের বৃহত্তম বিমানবন্দরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ইসরাইলে এবার বড় হামলা চালাল ইরান। গতকাল শুক্রবার দেশটি ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর ও রাজধানী তেল আবিবসহ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এছাড়া একটি মার্কিন রণতরি এবং কুয়েত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। এদিকে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রও তেহরানের কেন্দ্রস্থলে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে শর্তহীন আত্মসমর্পণ করতে হবে। তবে ইরান পালটা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য তারা প্রস্তুত। যদিও এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা শুরু করেছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার ধ্বংসের অভিযানে ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

ইসরাইলের বড় বিমানবন্দরে হামলা

ইসরাইলের প্রধান, সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। যদিও জেরুজালেম পোস্ট হামলার কথা জানিয়েছে। গতকাল সকালে তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিতে ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার মধ্যেই এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের মধ্যঞ্চলে অন্তত একজন আহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধ গতকাল সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩২ জনে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর তেল আবিবে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইসরাইলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রীর ছেলে আহত হয়েছেন।

দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান

ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সংঘাতে এখনো ব্যবহার না করা নতুন উন্নত অস্ত্র শিগিগরই মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনির হুঁশিয়ারি, ইরানের শত্রুদের সামনে আরো কঠিন আঘাত অপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, ‘আসন্ন হামলায় ইরানের শত্রুদের বেদনাদায়ক আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এখনো পর্যন্ত ব্যবহার না হওয়া অস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত হানার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর খাতাম আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরিটি তাদের ড্রোন হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সংস্থাটির মুখপাত্র বলেছেন, রণতরিটি ওমান সাগরে ইরানের সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে এসে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিল। তখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসির নৌবাহিনীর ড্রোন হামলায় রণতরিটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর রণতরিটি তার সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ারসহ দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায় এবং এখন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির অভ্যন্তরে রাতভর পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তারা প্রতিহত করেছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘রেমিট্যান্স ঝুঁকি, বাড়তি আমদানি ও রিজার্ভ চাপে নতুন দুশ্চিন্তা’। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে গত দেড় বছরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। প্রায় প্রতি মাসেই দেশে তিন বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স এসেছে। ফলে দীর্ঘদিনের চাপ কাটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো ৩০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। কিন্তু নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আবারো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ধাক্কা লাগতে পারে। একই সময়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে, যার ফলে আমদানির চাপও বাড়বে। এই দুই পরিস্থিতি একসাথে ঘটলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো চাপে পড়তে পারে এবং ডলার সঙ্কট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো প্রবাসী আয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটির মতো বাংলাদেশী কর্মরত আছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরাইনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। গত ১৮ মাসে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রণোদনা, হুন্ডি দমনে কঠোরতা এবং ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে প্রবাসীরা আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরেই প্রতি মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এই ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য কিছুটা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে। ডলার বাজারেও কিছুটা স্থিতি ফিরেছিল। আমদানিকারকরা আগের তুলনায় সহজে ডলার সংগ্রহ করতে পারছিলেন এবং ব্যাংকগুলোতেও ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল। ফলে রিজার্ভ ফের ৩০ বিলিয়ন ডলার আতিক্রম করে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে সরাসরি সঙ্ঘাতে রূপ নেয়ার এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সঙ্ঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং অন্যান্য দেশ এতে জড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে প্রথমে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। অনেক সময় নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে কাজ কমে যায়। এসব খাতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক কর্মরত থাকায় তাদের কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব পড়ে। যদি বড় আকারে কাজ কমে যায় বা শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তাদের আয় কমে যাবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্স প্রবাহে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারো দ্রুত কমে যেতে পারে। কারণ দেশের আমদানি চাহিদা এখনো অনেক বেশি। জ্বালানি, খাদ্যশস্য, শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার প্রয়োজন হয়। গত কয়েক বছরে ডলার সঙ্কটের কারণে অনেক আমদানি সীমিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিল্পকারখানার উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে, অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে আবারো গতি আসবে এবং ভোগ্যপণ্যের আমদানিও বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী মাসগুলোতে আমদানি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমদানি বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়বে। যদি একই সময়ে রেমিট্যান্স কমে যায়, তাহলে এই চাপ আরো তীব্র হয়ে উঠবে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

আজকের পত্রিকা

পঞ্চম শ্রেণির ‘পড়ার চিন্তায়’ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনি জটিলতায় স্থগিত হওয়া ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। সম্প্রতি জুনিয়র ও ইবতেদায়ি বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

শিক্ষাবর্ষের এ সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা জেনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কারণ, গত বছর যাদের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, তারা এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। ফলে নিজেদের শ্রেণির নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের আবার এখন পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পাঁচটি বিষয়ে মোট ৪০০ নম্বরের ওপর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ নম্বর করে এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ নম্বর করে বরাদ্দ থাকবে।

শিক্ষামন্ত্রী গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নেওয়া হবে। এ পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

অবশ্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত সোমবার সচিবালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এখনই সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা অপ্রাসঙ্গিক হবে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ বলছেন, বৃত্তি পরীক্ষা কার্যত শিক্ষায় বৈষম্য বাড়ায়। কারণ, এতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভরতা বেড়ে গিয়ে অভিভাবকদের ওপর আর্থিক বোঝাও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণিতে সর্বশেষ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে। এর আগে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই পরীক্ষা চালু ছিল। পরে ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) নামের পাবলিক পরীক্ষা চালু হলে বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। তখন পিএসসির ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া শুরু হয়। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা আবার চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী বছরের শেষে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও আদালতের আদেশে তা স্থগিত করা হয়।

এ ছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সুপারিশ দিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিটি অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা (জেএসসি) বাতিল করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, ‘কমিটি জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। এ পরীক্ষার ফলে শিক্ষায় বৈষম্য আরও বাড়বে। কারণ, শুধু নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীই এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।’

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘তেল নিয়ে হুলস্থুল’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে এ আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকাল থেকেই রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছিল ব্যাপক ভিড়। যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। আগের দিনের চেয়ে এ চাপ আরও বেড়েছে।

ঢাকার বাইরেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে অস্বাভাবিক ভিড়। কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, আবার কোথাও মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

যদিও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ফুরিয়ে যায়নি। কৃত্রিম সংকট সামলাতে যানবাহনে তেল বিক্রির কোটা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। তেল নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক না ছাড়াতে সবার প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। মন্ত্রী বাড়তি তেল মজুদ না করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

পরীবাগের পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দীর্ঘমেয়াদে যাতে দেশে জ্বালানির সংকট না হয়, সেজন্য আগামীকাল রবিবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পেট্রোল পাম্পগুলোকে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদাই পরিস্থিতিকে বেশি চাপের মধ্যে ফেলছে। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, মার্চের ১ থেকে ৪ তারিখ ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৯৫ হাজার টন। যেখানে গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৪৫ হাজার টন। অকটেন ও পেট্রোলের বিক্রিও বেড়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়ছেই’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের ভয়াবহতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। যুদ্ধের সপ্তম দিন গতকাল তেহরানে বোমা হামলার মাত্রা আকস্মিকভাবেই বাড়িয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বি-২ মডেলের স্টিলথ বোমারু বিমানে করে পেনিট্রেটর বোমা (বাংকারবিধ্বংসী) দিয়ে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দেশটির রাজধানী তেল আবিব, হাইফা বন্দর, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায় ইরান। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে লক্ষ্য পূরণ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বিপরীতে ইরানও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

গতকাল ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, হাইফা এবং তেল আবিবে হামলা চালানো হয়। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো। এ ছাড়া রাজধানী তেল আবিব, হাইফা বন্দর ও পূর্ব জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলে হামলায় প্রথমবারের মতো ক্লাস্টার মিসাইল (একাধিক বোমা বহনযোগ্য) ব্যবহার করেছে ইরান। এই একটি মিসাইল দিয়ে বিস্তৃত এলাকায় হামলা চালানো যায়।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। শিগগিরই আরও হামলা চালানো হবে। পাশাপাশি জর্ডানের ইরবিদ শহরে বেশ কয়েকটি ড্রোন ছুড়েছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাবাহিনী। এ ছাড়া কুয়েত উপকূলে আবারও মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েত উপকূলে মার্কিন তেলবাহী একটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। এতে ওই ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। অন্যদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে গতকালও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধের সপ্তম দিনে প্রথমবারের মতো বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান থেকে বাংকারবিধ্বংসী বোমা হামলা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, শুক্রবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানগুলো ইরানের ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোর ওপর ডজনখানেক ২ হাজার পাউন্ডের ‘পেনিট্রেটর’ বোমা (ভূগর্ভে প্রবেশ করে ধ্বংস করতে সক্ষম) নিক্ষেপ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানে বোমাবর্ষণের তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে চলেছে। এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানে তারা দ্বিতীয় ধাপের হামলা শুরু করেছে। তাদের বিমানবাহিনী রাতভর হামলা চালিয়ে ছয়টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ছোড়ার আগেই সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া তারা ইরানের তিনটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।

মানবজমিন থেকে ।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা