জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর: যশোরের মনিরামপুরে নির্বাচনী উত্তাপ এখন জনপদের প্রতিটি আঙিনায় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। খেতের আল, গ্রামের চায়ের দোকান, হাটের ব্যস্ততা কিংবা রাতের নিস্তব্ধতায় টর্চ হাতে ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কড়া নাড়া—সবখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট গাজী এনামুল হক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই এই জনপদের রাজনীতিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত উন্নয়ন-সংকট, অবহেলিত রাস্তা-ঘাট, কৃষকের দুঃখ-অভিমান, নারীদের নানামুখী বঞ্চনা—সব কিছুই উঠে আসছে এই প্রার্থীর সঙ্গে মানুষের খোলামেলা কথোপকথনে। আর এই সরাসরি সংযোগই ভোটারদের মাঝে দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ তৈরি করছে; যেন গ্রামীণ রাজনীতিতে নতুন করে বয়ে যাচ্ছে সততার এক মৃদু কিন্তু গভীর বায়ুপ্রবাহ।
মনিরামপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ—নেতারা শুধু নির্বাচনের সময় আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু নির্বাচনের পরে আর দেখা পাওয়া যায় না। সেই ক্ষোভ, সেই বঞ্চনা, সেই দীর্ঘশ্বাসের ভিতরেই এবার তারা দেখছেন একজন এমন প্রার্থী, যিনি জোড়ালো স্লোগানের চেয়ে মানুষের ঘরের ভিতরে ঢুকে, পাশের খেতে বসে, চায়ের কাপ হাতে নিয়ে, চোখে চোখ রেখে কথা বলার মূল্য বেশি বোঝেন। রোহিতা ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর হোসেনের কথায় যেন ফুটে ওঠে অনেকের অন্তর্লুকানো অনুভূতি—“আমরা তো আর বড় কিছু চাই না, শুধু চাই আমাদের কথা কেউ শুনুক। এবার মনে হচ্ছে, আমাদের কষ্টটা সত্যিই কেউ বোঝার চেষ্টা করছে।” নারী ভোটার শিরিন আক্তারের চোখে শিক্ষার মানোন্নয়ন আর মেয়েদের নিরাপদ যাতায়াতের দাবি। শিক্ষক মোস্তফা কামালের মতে, “সত্যিকারের পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন একজন প্রার্থী মাঠে, মানুষের পাশে, সমস্যার ভেতর দাঁড়িয়ে তা অনুভব করবেন।”
কাশিমনগর, ভোজগাতি, ঢাকুরিয়া, ঝাপা, খেদাপাড়া, শ্যামকুড়, খানপুর, নেহালপুর, কুলটিয়া, দূর্বাডাংগা, মনোহরপুরসহ সব ইউনিয়নের গ্রামগুলোতেই একই সুর, একই আকাঙ্ক্ষা। রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা, সেচ সুবিধায় সংকট, বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, স্কুলের পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা—এ যেন গোটা জনপদের চিরচেনা ব্যথা। এসব কথা শুনতে শুনতেই অনেকদিন পর যেন নতুন ভরসা ফিরে পেয়েছেন ভোটাররা। প্রবীণ মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমরা শুধু ভোট চাইতে আসা নেতা চাই না, মাঠে নেমে সমস্যার সমাধান করতে চাই এমন নেতা চাই। জামাতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট গাজী এনামুল হক সেই সাহসটা দেখাচ্ছেন।” তরুণ নাজমুল হক যোগ করেন, “যুব সমাজের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট, নতুন কর্মসংস্থান—এসব নিয়ে আমাদের সঙ্গে তার আলাপগুলো বাস্তবমুখী মনে হয়েছে।”
হাটবাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, “বাজারে শৃঙ্খলা নেই, যানজট থাকে সারাক্ষণ। এডভোকেট গাজী এনামুল হক এসে সরাসরি বললেন, সমস্যা শুধু দেখা নয়, সমাধান করা জরুরি।” চা-স্টলে বসে থাকা নারীরাও একই আশা প্রকাশ করেন—“দীর্ঘদিন আমাদের কথা কেউ শোনেনি। এবার অন্তত আমাদের কষ্টটা বলেছেন, শুনেছেন, গুরুত্ব দিয়েছেন।” পৌরসভা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথ—সবখানেই দাঁড়িপাল্লা মার্কার জনপ্রিয়তা যেন দিন দিন বাড়ছে। গাজী এনামুল হকের সরাসরি সংযোগ, ভদ্র, বিনয়ী আচরণ এবং মানুষের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সম্মানজনক মনোভাব ভোটারদের মনে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক আস্থা তৈরি করেছে।
তার নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোও বাস্তবসম্মত ও মানুষের প্রত্যাশা–নির্ভর—দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য হ্রাস, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্কুলের পাঠদানের মানোন্নয়ন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রচলন। এসব প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মাঠে তার সংযোগ তৈরির পদ্ধতি ভোটারদের মনে করেছে আরও দৃঢ়—কারণ তারা দেখছেন, জামাতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শুধু কথা দিচ্ছেন না, সমস্যার মূল জায়গাগুলোর ছবি নিজে ধারণ করছেন।
সূত্র মতে, মনিরামপুরে রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই পরিবর্তনের সাক্ষী। ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। যার কারণে এ জনপদকে সবসময়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর-৫ আসনে মোট ভোটার ৩,৭০,২৮৫ জন। পুরুষ ১,৮৬,১৪১ এবং নারী ১,৮৪,১৪০। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার দুইজন। নতুন ভোটারের সংখ্যা ১৬,৬৪৬—যাদের বড় অংশই প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে। আর এই নতুন ভোটারদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠের প্রচারণা দেখে দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কারণ তারা পরিবর্তন চায়, স্বচ্ছতা চায়, ভরসাযোগ্য নেতৃত্ব চায়।
মনিরামপুরের গ্রামীণ জনপদে গাজী এনামুল হকের গণজোয়ার দিনে দিনে যেন আরও উঁচু ঢেউ হয়ে উঠছে। খেতের পাশের মাটির বাঁশ, পুকুরের ধারে লেপা উঠোন, রাস্তার পাশের চিকন পলিথিন টাঙানো চায়ের দোকান—সবখানে ভোট, উন্নয়ন, এবং অগ্রগতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই নাম। তরুণদের ভাষায়, “গাজী এনামুল হক আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন।” নারীদের ভাষায়, “তিনি আমাদের সম্মান দিয়ে কথা বলেন।” কৃষকদের ভাষায়, “তিনি আমাদের কষ্ট বোঝেন।” আর প্রবীণদের ভাষায়, “তিনি রাজনীতিকে আবার মানুষের কাছে ফিরিয়ে এনেছেন।”
এই জনপদের মানুষ জানে, একজন প্রার্থী যখন নিজের জুতার ধুলো উড়িয়ে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, তখন সেই রাজনীতির শক্তি অনেক বেশি মানবিক হয়ে ওঠে। গাজী এনামুল হক সেই মানবিকতার জায়গা থেকে রাজনীতি করছেন—এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। মনিরামপুরে তাই দাঁড়িপাল্লা মার্কার গণজোয়ার কেবল একটি নির্বাচনী ঢেউ নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইশারা—যেখানে প্রতিশ্রুতি প্রচারণার মাইক নয়, মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে, তার হাত ধরে বলার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, মনিরামপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে। তবে এই উত্তাপের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন এডভোকেট গাজী এনামুল হক নামের একজন মানুষ, যিনি মাঠে নেমে মানুষের মন জয় করে এক নতুন রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠছেন। তার প্রচারণা দেখলে মনে হয়, শুধু একটি নির্বাচনী লড়াই নয়, বরং মনিরামপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় রচিত হচ্ছে। এই অধ্যায় মানুষ লিখছে আশা দিয়ে, আস্থা দিয়ে, আর পরিবর্তনের স্বপ্ন দিয়ে—যার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছেন এডভোকেট গাজী এনামুল হক এবং তার দাঁড়িপাল্লা মার্কার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির বড় দুটি দলের আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাঠে সক্রিয়ভাবে মানুষের সঙ্গে সংযোগের কারণে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। গ্রামের প্রবীণ, যুবক ও নারী—সবাই গণজোয়ারের অংশ। এ ধরনের সরাসরি জনসংযোগ ও গণজোয়ার মনিরামপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে।
মোটকথা, মনিরামপুরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে অবহেলা, বৈষম্য এবং অসম উন্নয়নের স্বাক্ষী হয়েছেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কারের গণজোয়ার সেই ক্ষোভ এবং আশা একত্রিত করছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতেই এডভোকেট গাজী এনামুল হকের মাঠে উপস্থিতি, সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ, প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে মনিরামপুরের রাজনৈতিক আবহকে এক নতুন রূপ দিচ্ছে। ভোটের দিন যখন আসবে, তখন এই গণজোয়ার কতটা বাস্তব রূপ পাবে, তা সময়ই দেখাবে; তবে আপাতত মনিরামপুরের গ্রামীণ জনপদে দাঁড়িপাল্লার ছাপ অপ্রতিহত এবং নির্বাচনী উত্তাপের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।