মোহাম্মদ আসাদ-স্টাফ রিপোর্টার।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে পৌর স্ট্যান্ডের ইজারা নিয়ে চাঁদা না পাওয়ায় শেখ রহমত আলী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছেন,এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আদিল আব্দুল্লাহ।
রোববার (১৭ মে) রাতে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আদিল আব্দুল্লাহ বলেন, গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে বকশীগঞ্জ পৌর স্ট্যান্ড এক মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। পৌরসভা ভবনে পৌর প্রশাসক সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনাসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
তিনি জানান, সরকারি নির্ধারিত দর ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পৌর বিএনপি নেতা মাসুদ বকশী ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় এক মাসের জন্য ইজারা পান। অন্য কেউ বেশি দর না দেওয়ায় বিধি অনুযায়ী মাসুদ বকশীকেই স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ডাক প্রক্রিয়া শেষে ব্যবসায়ীরা পৌরসভা সংলগ্ন এন এম হাইস্কুল মাঠে আলাপ করছিলেন। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ কথিত পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ রহমত আলী সেখানে এসে জানতে চান স্ট্যান্ড কারা পেয়েছে। মাসুদ বকশী ইজারা পেয়েছেন শুনে রহমত আলী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং আগেরবার ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিল, এবার এত কম কেন—এমন প্রশ্ন তোলেন।
আদিল আব্দুল্লাহ বলেন, উপস্থিত লোকজন রহমতকে জানায়, আগেও লোকসান হওয়ায় এবার কেউ বেশি দর দেয়নি। তখন রহমত আলী অভিযোগ করেন সিন্ডিকেট হয়েছে এবং সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগরের উদ্দেশে অশোভন মন্তব্য করেন। এমনকি তিনি এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা না দিলে পুনরায় ডাক দিতে হবে বলে হুমকি দেন। ডাক পুনরায় না হলে কিভাবে পৌর টোল আদায় হয় তা দেখিয়ে দেবেন বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, রহমত আলীর এমন আচরণে উপস্থিত ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগর পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে রহমত আলীর ওপর হামলা-মারধরের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন আদিল আব্দুল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে রহমত আলীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করার কথাও জানান তিনি।
আদিল আব্দুল্লাহ আরও বলেন, চাঁদা না পেয়ে রহমত আলী নাটক সাজিয়ে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, রহমত আলী একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন। পরে জুলাই আন্দোলনের পর এলাকায় ফিরে এসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছেন। মাদক ব্যবসা, নারী ব্যবসা, চোরাচালানসহ নানা অপকর্মে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রহমত আলী পৌরসভা ও সাবেক পৌর মেয়রের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দলীয় স্বার্থে রহমত আলীকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।
এ সময় দলের সুনাম ও ঐক্য বজায় রাখতে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে মাননীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপির কাছে আবেদন জানান আদিল আব্দুল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সওদাগর, পৌর বিএনপির সদস্য সীমান্তসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।